‘নিলুফা ভিলা’ থেকে আটক দুই নারী মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন | daily-sun.com

‘নিলুফা ভিলা’ থেকে আটক দুই নারী মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:১৬ টাprinter

‘নিলুফা ভিলা’ থেকে আটক দুই নারী মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন

 

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচর গাঙপাড় এলাকায় দ্বিতীয় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখা নিলুফা ভিলা থেকে আত্মসমর্পণ করা দুই নারী মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার (১৭ অক্টোবর) পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 


তিনি জানান, আত্মসমর্পণ করা ওই দুই নারী হলেন খাদিজা আখতার মেঘনা ও মৌসুমী ওরফে মারিয়া মৌ। তাদের বয়স ত্রিশের কোটায়। এর মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছিল। তার স্বামী নব্য জেএমবির একজন শীর্ষ নেতা। তাকে গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। অন্যজনেরও বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।  


এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করে। পরে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।


মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকালের অভিযানে নিহত দুজন স্বামী-স্ত্রী।

প্রাথমিকভাবে তাদের নাম জানা গেছে, আবু আব্দুল্লাহ আল বাঙাল ও আকলিমা আখতার মনি। নিহত মনির সঙ্গে মেঘনা ও মৌরও সম্পর্ক ছিল।


মনিরুল বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট এই তিন নারীসহ চারজন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। মানারাতে পড়ার সময়ই তাদের পরিচয় ঘটেছিল।

 


তবে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের একজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। মিরপুর মডেল থানার একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, নিলুফা ভিলায় আগে থেকেই জঙ্গিদের আনাগোনা ছিল। ভগীরথপুরের অভিযানে নিহতরাও এ বাড়িটিতে আসতেন।


নিলুফা ভিলার অবকাঠামো দুর্বল ছিল। তাই এ অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নিগোশিয়েশনের মাধ্যমে এভাবে আত্মসমর্পণ করানোর ঘটনা সত্যিই বিরল।


দুপুরে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর এখন আর আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।


এর আগে সাড়ে ১১টার দিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখা ওই নিলুফা ভিলায় থাকা ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তবে প্রথম দিকে সেই আহ্বানে সাড়া মিলছেনা বলে জানিয়েছেন ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা গতকাল রাত এবং বুধবার সকালেও ভবনে অবস্থানরত জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। আমরা চেষ্টা করছি, সোয়াটের অপারেশন ছাড়াই তাদেরকে বের করে আনতে। আর সেটা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এর আগে সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে ভবনটির চারপাশ ঘিরে রেখে ড্রোন উড়িয়ে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।

 


এর পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল যেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানকার মতো এখানেও জঙ্গিদেরও আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছি। দফায় দফায় তাদের নিগোশিয়েশনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের অভয় দেয়া হয়েছে যে, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নেই, সেহেতু তাদের লঘু শাস্তির আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সংলাপে আসছে না।  
 

মনিরুল ইসলাম বলেন, নিগোশিয়েশনে দক্ষ এমন একটি দক্ষ টিম ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে তাদের সংলাপে নিয়ে আসা যায়। কারণ আমরা একটি রক্তপাতহীন অভিযান চালাতে চাই। যখন কোনো উপায়ন্তর থাকবে না, তখনই কেবল অভিযান শুরু হবে।


বাড়িটাতে একাধিক জঙ্গির চলাচল লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান। মনিরুল বলেন, অন্তত দুই জঙ্গি সেখানে রয়েছে। যাদের কাছে বিস্ফোরক আছে।

 
এর আগে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে সোমবার (১৫ অক্টোবর) দিনগত রাত থেকে মাধবদী পৌরসভা ভবন থেকে ২০০ গজ দূরে অবস্থিত আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন সাত তলা ভবন ‘নিলুফা ভিলা’ ঘিরে রাখে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিট। ওই এলাকায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। মাইকিং করে মহল্লার সবাইকে বাড়ির বাইরে ও ছাদে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়।


নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)। আর এর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। জঙ্গি আস্তানা ও এর চারপাশের নিরাপত্তায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাততলা ওই ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয় তলায় মহিলা মাদরাসা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে ভবনটির ৫০০ গজের ভেতরের বাসিন্দাদের অনেকে বাড়ি ফিরতে না পেরে আশপাশের মার্কেট ও মসজিদে অবস্থান করছেন। আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের দোকানপাট এবং ছয়টি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। ভবনটির ভেতর মিফতাহুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও সরিয়ে নেয়া হয়।
 

এর আগে সোমবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচর গাঙপাড় এলাকার আফজাল হাজির ‘নিলুফা ভিলা’ এবং সদর উপজেলার শেখেরচরের দীঘিরপাড় এলাকার বিল্লালের বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা। এর মধ্যে মঙ্গলবার ‘অপারেশন গর্ডিয়ান নট’ নামে এ অভিযানে শেখেরচর ভগীরথপুরে নারীসহ দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন। শেখেরচরের অভিযান শেষ করে মাধবদীতে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।


মঙ্গলবারের অভিযানে নিহতদের সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাদের হাতে ছাপ নেয়া হয়েছে। সেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএর নমুনা নেয়া হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, অতীতে তারা জঙ্গি কাজে জড়িত ছিলেন। তাদের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী বলে মনে করছি।


এছাড়া দুটি বাড়ির মালিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে মনিরুল জানান। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। দুটি বাসাই এ মাসের ৭ তারিখে ভাড়া নেয়া হয়েছে বলে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়।

 

 

 


Top