আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া নেই ‘জঙ্গি আস্তানা’ নিলুফা ভিলা থেকে | daily-sun.com

আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া নেই ‘জঙ্গি আস্তানা’ নিলুফা ভিলা থেকে

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:৪৯ টাprinter

আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া নেই ‘জঙ্গি আস্তানা’ নিলুফা ভিলা থেকে

 

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচর গাঙপাড় এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখা নিলুফা ভিলায় থাকা ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বুধবার (১৭ অক্টোবর) সাড়ে ১১টার দিকে এ আহ্বান জানানো হয়।

তবে সেই আহ্বানে সাড়া মিলছেনা বলে জানিয়েছেন ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা গতকাল রাত এবং বুধবার সকালেও ভবনে অবস্থানরত জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। আমরা চেষ্টা করছি, সোয়াটের অপারেশন ছাড়াই তাদেরকে বের করে আনতে। আর সেটা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখা নিলুফা ভিলা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।  


এর আগে সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে ভবনটির চারপাশ ঘিরে রেখে ড্রোন উড়িয়ে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।


এর পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল যেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানকার মতো এখানেও জঙ্গিদেরও আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছি। দফায় দফায় তাদের নিগোশিয়েশনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাদের অভয় দেয়া হয়েছে যে, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নেই, সেহেতু তাদের লঘু শাস্তির আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সংলাপে আসছে না।

 


মনিরুল ইসলাম বলেন, নিগোশিয়েশনে দক্ষ এমন একটি দক্ষ টিম ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে তাদের সংলাপে নিয়ে আসা যায়। কারণ আমরা একটি রক্তপাতহীন অভিযান চালাতে চাই। যখন কোনো উপায়ন্তর থাকবে না, তখনই কেবল অভিযান শুরু হবে।


বাড়িটাতে একাধিক জঙ্গির চলাচল লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান। মনিরুল বলেন, অন্তত দুই জঙ্গি সেখানে রয়েছে। যাদের কাছে বিস্ফোরক আছে।

 
এর আগে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে সোমবার (১৫ অক্টোবর) দিনগত রাত থেকে মাধবদী পৌরসভা ভবন থেকে ২০০ গজ দূরে অবস্থিত আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন সাত তলা ভবন ‘নিলুফা ভিলা’ ঘিরে রেখেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিসিটিসি) ইউনিট। ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। মাইকিং করে মহল্লার সবাইকে বাড়ির বাইরে ও ছাদে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে।


নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)। আর এর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। জঙ্গি আস্তানা ও এর চারপাশের নিরাপত্তায় ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাততলা ওই ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয় তলায় মহিলা মাদরাসা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে ভবনটির ৫০০ গজের ভেতরের বাসিন্দাদের অনেকে বাড়ি ফিরতে না পেরে আশপাশের মার্কেট ও মসজিদে অবস্থান করছেন। এলাকার সব দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 
এর আগে সোমবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচর গাঙপাড় এলাকার আফজাল হাজির ‘নিলুফা ভিলা’ এবং সদর উপজেলার শেখেরচরের দীঘিরপাড় এলাকার বিল্লালের বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা। এর মধ্যে মঙ্গলবার ‘অপারেশন গর্ডিয়ান নট’ নামে এ অভিযানে শেখেরচর ভগীরথপুরে নারীসহ দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন। শেখেরচরের অভিযান শেষ করে মাধবদীতে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।


মঙ্গলবারের অভিযানে নিহতদের সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাদের হাতে ছাপ নেয়া হয়েছে। সেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএর নমুনা নেয়া হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, অতীতে তারা জঙ্গি কাজে জড়িত ছিলেন। তাদের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী বলে মনে করছি।


এছাড়া দুটি বাড়ির মালিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে মনিরুল জানান। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 


Top