মিয়ানমারের গণহত্যাকারী সরকারকে সাহায্য দিচ্ছে ইসরাইল | daily-sun.com

মিয়ানমারের গণহত্যাকারী সরকারকে সাহায্য দিচ্ছে ইসরাইল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৫১ টাprinter

মিয়ানমারের গণহত্যাকারী সরকারকে সাহায্য দিচ্ছে ইসরাইল

 

“ঐতিহাসিকভাবে, যখনই (কোন দেশের উপর) মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে, ইসরাইল সেই শূণ্যতা পূরণ করেছে”। জেরুজালেম-ভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবী ইটাই ম্যাক এই কথা বলেছেন।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর রফতানিতে স্বচ্ছতার দাবি নিয়ে কাজ করছেন তিনি।


ইসরাইল মিয়ানমারের জনগণের জন্য একটা দুঃসংবাদের মতো কারণ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিগত ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে সহযোগিতা চলে আসছে।

 
মিয়ানমারের সামরিক গোয়েন্দাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে মোসাদ। জবাবে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী কর্মী, ভিক্ষু, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা– যারা আজ মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে পরিচিত– তাদের উপর নির্যাতন করেছে সামরিক বাহিনী। সত্তর ও আশির দশকে কৃষি উন্নয়নে সহযোগিতার নামে শত শত তরুণ কর্মকর্তাকে ইসরাইলে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।


কার্যত ইসরাইলের ‘উন্নয়ন নীতি’ এবং অবৈধ বসতি বিস্তারের বিষয়টি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের জন্য একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তারা পূর্ব মিয়ানমারের শান প্রদেশে জঙ্গি দমনের নামে অভিযান চালিয়েছে।


দুজনকে আমি জানি যারা ইসরাইল ও মিয়ানমারের এই সম্পর্ক গড়ার পেছনে সহযোগিতা করেছে। মিয়ানমারের জেনারেল নে উইন এবং ইসরাইলের ডিফেন্স ফোর্স জেনারেল মোশে দারানের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল।

এই দুজনের একজন প্রয়াত রবার্ট নাথান, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের কণিষ্ঠতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বিতীয়জন হলেন নাথানের স্টাফ সদস্য এবং জুনিয়র সহকর্মী প্রয়াত লুই ওয়ালিন্সকি, যিনি বার্মিজ জাতীয় সরকারের রেসিডেন্ট অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী উ নু’র পার্লামেন্টারি সরকারের আমলে পাঁচ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 


১৯৬২ সালে নূ কে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে দেয়া হলেও ওয়ালিন্সকি এবং নাথান উভয়েই সে সময়ের গণতান্ত্রবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে গেছেন, যে আন্দোলন উত্থানের পর আবার ঝিমিয়ে পড়ে। নে উইনের অধীনে সামরিক বাহিনীর গোপন কর্মকাণ্ডের কারণে তারা খুবই হতাশ ছিলেন।


ইসরাইলের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহযোগিতা মিয়ানমারের অবদমিত জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। সেগুলোর বিনিময়ে ইসরাইল মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দিয়েছিল যে, কিভাবে জাতিসংঘে ইসরাইলের উপর ভোটাভুটিতে অংশ নিতে হবে এবং জাতিসংঘের বলয়ে তাদের মিত্র কারা কারা রয়েছে।


মিয়ানমারে গণহত্যা চলতে থাকলেও এবং রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকরেও ইসরাইল সব সময় মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লিয়াংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছে। অস্ত্র কিনতে লিয়াং যখন ইসরাইল যান, তখন তার সাথে ছিলেন তার পুরনো বন্ধু চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল মিয়া তুন উ।


ইসরাইল বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নির্যাতিতরা নিজেই জঘন্য নির্যাতনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সারা বিশ্বে বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে আমার দেশের তথা-কথিত বৌদ্ধ সমাজ ও মানুষরা এক সময় ব্রিটিশদের উপনিবেশ ও আধা-দাসে পরিণত হয়েছিল। আজ তারাই গণহত্যাকারী দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে শুধু জেনারেল আর সু চি বা শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষুরাই দায়ি নন, মিয়ানমারের জনগণের একটা বিরাট অংশ যাদের মধ্যে নির্যাতিত খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও রয়েছে, তারাও এই গণহত্যায় উল্লাস করেছে। ঔপনিবেশিক শক্তি আমেরিকারও বিরাট অংশে গণহত্যা চালিয়েই উপনিবেশ কায়েম করেছিল। অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, হাওয়াইয়েও একই ঘটনা ঘটেছে। মানব সংগঠনের কুৎসিৎ চেহারাটা ব্যতিক্রমী কিছু নয়, এটাই হলো রীতি।


এই পৃথিবীতেই আমরা বাস করছি। পৃথিবী সব সময়ই এ রকম ছিল। বেদনার হলেও এটাই সত্যি।


- সূত্র: দ্য সিটিজেন অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top