যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ | daily-sun.com

যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:২০ টাprinter

যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

 

যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


গত ৮ অক্টোবর ভারতের দুই নারী সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী মণিকা গান্ধি এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা বলেন।  


এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এমজে আকবরের পদত্যাগ নিয়ে সাংঘর্ষিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। সূত্রের দাবি, যৌন হয়রানির অভিযোগ আসার পরই এমজে আকবর বুঝতে পারেন, তার পদ নড়েবড়ে। কারণ, এ ইস্যুতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ফোন করেছিলেন।


সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রামদাস অথাওলে বলেছেন, ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমজে আকবরের পদত্যাগ করা উচিত। ’


গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘যেই যৌন নিপীড়নের শিকার হন না কেন মুখ খুলতে হবে, লজ্জা পেয়ে লাভ নেই। ’


ইতোমধ্যে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনসহ বিভিন্ন দল এমজে আকবরকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন।


আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা ওই দুই নারী সাংবাদিকের একজন প্রিয়া রামানি।

প্রায় এক বছর আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ভারত সংস্করণে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি এই যৌন নির্যাতনের কথা বলেছিলেন।


টুইট বার্তায় প্রিয়া রামানি বলেন, ‘সেই ঘটনার জন্য দায়ী এম জে আকবর। ’ এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন, যাদের বেশিরভাগই সাংবাদিক। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রী আকবর পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন তারা যৌন হেনস্তার শিকার হন।


এমজে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগকারীদের মধ্যে আরো রয়েছেন, প্রিয়া সিং বিন্দ্রা, ঘজালা ওয়াহাব, সুপ্তা পাল, আনজু ভারতী, সুপর্ণা শর্মা, সোমা রাহা, মালিনী ভুপ্তা, কণিকা গৌলত, কদমবারি এম ওয়েড ও মাজলি দ্য পু ক্যাম্প।


সম্প্রতি ভারতে একের পর এক নারী সাংবাদিক তাদের সাবেক সম্পাদক, ব্যুরো চিফ বা ঊর্ধ্বতন বসের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অজস্র অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সামনে আনতে শুরু করেছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন, কোথাও আবার সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠান অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তারপরও প্রভাবশালী এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আদৌ শাস্তির আওতায় আনা যাবে কি-না, পর্যবেক্ষকেরা তা নিয়ে সন্দিহান।


উল্লেখ্য, এক বছর ধরে সফল মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টেনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যা ‘#মি টু’ (#MeToo) নামে পরিচিত। একের পর এক অভিনেত্রী ও পরিচিত নারী প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাবান এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন, যেগুলো আদালতের বিচারাধীন। তারই রেশ ধরে ভারতেও শুরু হয়েছে এক ‘আন্দোলন’।

 


Top