বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, যুবদল নেতা হাতেনাতে আটক | daily-sun.com

বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, যুবদল নেতা হাতেনাতে আটক

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:৫৯ টাprinter

বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, যুবদল নেতা হাতেনাতে আটক

 

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার টিএমএসএস পেট্রল পাম্পের কাছে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ৩ নারী আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সহ-কৃষিবিষয়ক সম্পাদক শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়াপাড়ার খাজা মিয়ার ছেলে নুর মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  


বুধবার (১০ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে উপজেলার সাজাপুর রাধারঘাট এলাকায় টিএমএসএস ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, আহতরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার মোজাম্মেল হকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (৫০), শিমুলবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী মুনিরা বেগম (৪০) ও টাঙ্গাইল শান্তিনগর গ্রামের সামছুল হকের মেয়ে শামীমা (২৭)।


জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর দুর্বৃত্তরা রংপুর থেকে ঢাকাগামী নাবিল ক্লাসিক পরিবহনে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৬৪৪) পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এ সময় নুর মাহমুদ নামে এক যুবদল নেতাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


বুধবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।   


রায়ে একই সঙ্গে বিচারক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী আবদুল হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের দণ্ড এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে (অভি), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, মো. আব্দুস সালাম পিন্টু ও মো. হানিফ (হানিফ পরিবহনের মালিক)। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে মাওলানা মো. তাজউদ্দিন ও মো. হানিফ পলাতক রয়েছেন। বাকিরা সবাই রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন।


রায়ে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

 
যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন- শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক), রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)। এদের সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।


এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।


এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে এই মামলায় জামিনে থাকা ৮ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এই ৮ আসামির মধ্যে সাবেক দুই আইজিপি আশরাফুল হুদা এবং শহুদুল হকও রয়েছেন।


আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ গ্রহণ করা হয়েছে। আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন:


রায়ের প্রতিবাদে ৭ দিনের কর্মসূচি বিএনপির


গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান বিএনপির


রায়ে খুশি কিন্তু পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় আওয়ামী লীগ: কাদের


ন্যায়বিচার পাইনি, উচ্চ আদালতে যাব: সানাউল্লাহ মিয়া


গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক-হারিছসহ যে ১৯ জনের যাবজ্জীবন


গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবর-পিন্টুসহ যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড


গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন


হাজির করা হয়েছে বাবরসহ ৩১ আসামিকে


২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি যারা


২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছেন যারা


এক নজরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মামলা

 

 


Top