মায়ের ক্যান্সারের ওষুধ খেয়ে ডোপ পজিটিভ, নিষিদ্ধ শেহজাদ | daily-sun.com

মায়ের ক্যান্সারের ওষুধ খেয়ে ডোপ পজিটিভ, নিষিদ্ধ শেহজাদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:৫৮ টাprinter

মায়ের ক্যান্সারের ওষুধ খেয়ে ডোপ পজিটিভ, নিষিদ্ধ শেহজাদ

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ৪ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন আহমেদ শেহজাদ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, তাদের বেঁধে দেওয়া মাদক-বিরোধী নিয়ম ভঙ্গ করেছেন এই ডানহাতি তারকা ব্যাটসম্যান।

তবে শেহজাদের শরীরে কী ধরনের মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে তা জানায়নি বোর্ড।

 

তবে নিজের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন শেহজাদ। তিনি বলছেন, ভুল করে মায়ের ক্যান্সারের ওষুধ খাওয়াতেই নাকি ডোপ টেস্টে তার শরীরে নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানি এই ওপেনার জানিয়েছেন, গত ৩ মে ঘুম থেকে ওঠার পর তার মাথা ঘুরাচ্ছিল। স্ত্রী সানা আহমেদের কাছে ‘গ্রাভিনেট’ নামক ওষুধ চেয়েছিলেন তিনি। ওই সময় তার স্ত্রী তাকে ভুলক্রমে তার মায়ের ক্যান্সারের ওষুধ এনে দেন। শেহজাদ না দেখেই সেই ওষুধ সেবন করেন।

 

আর এতেই বাধে বিপত্তি। ওইদিন পাকিস্তান লিগের ম্যাচের পর ডোপ টেস্ট করলে সেখানে তার রক্তে নিষিদ্ধ বস্তুর নমুনা পাওয়া যায়।

এর ফলে তাকে নিষিদ্ধ করে দেশটির ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পিসিবি।

 

আত্মপক্ষ সমর্থনে পিসিবির কাছে নিজের মায়ের প্রেসক্রিপশন পাঠিয়েছেন শেহজাদ। একই সঙ্গে নিজের ডাক্তার ও ফিজিওর লেখা ওষুধের তালিকাও দিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমান কোচ মিকি আর্থার, সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ও শোয়েব মালিকের থেকে নেওয়া ‘চারিত্রিক সনদপত্রও’ জমা দিয়েছেন।

 

শেহজাদের চার মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ১১ নভেম্বর। এরপর পিসিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে তাকে। শুধু তাই নয়, পিসিবি নির্ধারিত কোনো সেমিনার কিংবা সম্মেলনে অ্যান্টি-ডোপিংয়ের ওপর বক্তৃতাও দিতে হবে ২৬ বছর বয়সী এই পাকিস্তানি ওপেনারকে।

 

গেল জুলাই মাসের ১০ তারিখে ২৬ বছর বয়সী শেহজাদকে নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের দায়ে অভিযুক্ত করে নোটিশ পাঠানো হয় এবং সেদিন থেকে তার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে এতদিন পাকিস্তানের বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই তথ্য গোপন রেখেছিল। শুক্রবার তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী ১০ নভেম্বর শেহজাদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে।

 

পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি জানিয়েছেন, ‘ডোপিংয়ের ব্যাপারে পিসিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং আশা করছে ভবিষ্যতে ক্রিকেটাররা তাদের শরীরে যেন কোনো নিষিদ্ধ বস্তু না প্রবেশ করে তা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। ’

 

পাকিস্তানের পক্ষে ১৩টি টেস্ট, ৮১টি ওয়ানডে ও ৫৭টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলা শেহজাদ এই শাস্তি মেনে নিয়েছেন। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে মাদক-বিরোধী বিষয়ে বক্তৃতাও দিতে হবে।

 


Top