মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা দেবে সরকার, সময় পেল ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত | daily-sun.com

মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা দেবে সরকার, সময় পেল ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:০৫ টাprinter

মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা দেবে সরকার, সময় পেল ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত

 

পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট এলাকার আলোচিত মুন সিনেমা হলের মালিককে আদালতের নির্দেশ অনুসারে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধে সম্মত হয়েছে সরকার। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চকে আজ সোমবার (৮ অক্টোবর) এই বিষয়টি অবহিত করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ আদালতকে অবহিত করেন।


এ সময় আদালতে প্রধান বিচারপতি বলেন, এ মামলা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত। আর কতদিন এভাবে ঘুরাবেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে টাকা পেলেই এ অর্থ নিয়ে তা ইটালিয়ান মার্বেলকে (মুন সিনেমার মালিক) দেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অর্থ পরিশোধের জন্য ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়।


আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক। অন্যদিকে মুন সিনেমা হলের মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও সাইফুল্লাহ মামুন।


এই প্রক্রিয়ার জন্য আজ তিন মাস সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরর্বর্তী তারিখ নির্ধারন করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির বরাতে আদালতকে জানানো হয়েছে, সংশোধিত বাজেট থেকে ওই অর্থ বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।


এর আগে গত ১ জুলাই পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিককে দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিক নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ওই দিন আদালত বলেছিলেন, অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তলব করা হবে।


চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে তিন কিস্তিতে এ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।


আলোচিত মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে মামলার পর সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হয়েছিল। সেই সিনেমা হলের জমি এবং তার ওপর গড়ে তোলা বর্তমান স্থাপনার নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত।


ওই দিন আদালত আদেশে বলেন, মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড কোম্পানিকে তিন কিস্তিতে এই ৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রথম কিস্তিতে দুই মাসের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা, পরের দুই মাসের মধ্যে আরও ২৫ কোটি এবং বাকি টাকা আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে হবে।


এর আগে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি মুন সিনেমা হলের জমি এবং তার ওপর গড়ে তোলা বর্তমান স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ। সেইসঙ্গে একজন ‘অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ’ প্রকৌশলীকে দিয়ে হলের সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।


তার ধারাবাহিকতায় মূল্য নির্ধারণ করে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর দেয়া প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত মূল্য পরিশোধের এই আদেশ দেন।


পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে এক সময়ের মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ছিল ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করা হয় এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয় ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, মুন সিনেমা হল ও এর সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পরে আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, সরকারকে ওই অর্থ আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।


ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক বলেন, আদালত বিষয়টি ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির বরাতে জানানো হয়েছে, সম্পূরক বাজেট থেকে ওই অর্থ বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

 

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সরকার কোনো সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে ফরমান জারি করে। এতে মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিও এর আওতায় পড়ে যায়। ইতালিয়ান মার্বেল ২০০০ সালে হাইকোর্টে ওই ফরমানসহ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করেন।

 

২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। মোশতাক, সায়েম ও জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণ সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ইতালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা হল ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ অবস্থায় সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।


অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

 


Top