ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি | daily-sun.com

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৩৯ টাprinter

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

 

বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হলো।

সোমবার (৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিলটিতে স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছে ইউএনবি।


এর আগে বিভিন্ন মহল থেকে ওই আইনটিতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাক্ষর না করার  জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে সম্পাদক পরিষদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই বিল পাসের বিরোধিতা করে কর্মসূচিতও দিয়েছিল। কিন্তু তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অনুরোধে সেসব কর্মসূচি স্থগিত করে  রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। সেই সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই আইনের যে ৯টি ধারায় আপত্তি আছে সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে। এরপর আবার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়।


এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বহুল আলোচিত এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটি পাস হয় জাতীয় সংসদে। এই আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সাংবাদিকদের আপত্তি থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বরং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারাকে ভিন্নভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংযোজন করা এবং ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট ১৯২৩’কে এই আইনের ৩২ ধারায় সংযুক্ত করার মাধ্যমে তা গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।


জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের পর সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে বলে, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ এই প্রতিবেদনে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি।


এরপর ৩ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী মন না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।


পরদিন পঞ্চগড়ে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করা হলে এই আইনেই তার রক্ষাকবচ আছে। আওয়ামী লীগ সরকার এই আইনের অপব্যবহার করবে না। ভবিষ্যতে যাতে এই আইনের কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, এ রকম রক্ষাকবচ এই আইনেই আছে। আইনের রক্ষাকবচ নিয়ে পরে ব্যাখ্যা করা হবে।


এই আইনের ৩২ ধারায় অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট প্রয়োগ করে সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যকে (‘তথ্য পাচারের’) অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অপরাধ সংঘটন ও সংঘটনে সহায়তার দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কেউ একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় রাখা হয়েছে।  


আইন প্রয়োগে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেয়ার বিধান বাতিলের জন্য আনা বিরোধী দলের সংশোধনী প্রস্তাব উপেক্ষা করেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। আইনে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি ও গ্রেফতারের পাশাপাশি ক্ষতিকর তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে।


বিলের বিলের ৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, ক্ষেত্রমত ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবেন। ’


একই ধারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় মহাপরিচালকের মাধ্যমে একইভাবে তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আইনের এ ধারায় সরকারকে অবহিত করে বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত অনুরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা দেয়া হয়েছে।


২১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা তিন কোটি টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ’


২৫ নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতিপ্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্ত বা হেয়প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উসকানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্যকোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধে আঘাত করে, তাহলে তিনি ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


২৯ ধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্যকোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে প্যানাল কোডের ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর কোনো তথ্য প্রচার বা প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


৩১ নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটানোর উপক্রম হয়, তাহলে তিনি ৭ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


৩২ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি (অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতাভুক্ত) কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


৪৩ নং ধারায় পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে পুলিশ যে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি করতে পারবে এবং বাধাপ্রাপ্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ও দলিলাদি জব্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবে। তবে তল্লাশি সম্পন্ন করার পর এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে প্রতিবেদন দিতে হবে।


বিলের ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুসারে এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটনে জড়িত কম্পিটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ফল্পি ডিস্ক, কম্প্যাক্ট ডিস্ক, টেপ-ড্রাইভ বা অন্য আনুষঙ্গিক উপকরণ বাজেয়াপ্ত হবে।


বিলের ৫৫ ধারায় এই আইনের অধীনে সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ‘প্রয়োজন হলে ‘অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন ২০১২-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে। ’


আইনের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালক প্রয়োজনবোধে এই আইনের বলে তার ওপর অর্পিত যে কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব লিখিতভাবে এজেন্সির কোনো কর্মচারী এবং অন্যকোনো ব্যক্তি বা পুলিশ অফিসারকে অর্পণ করতে পারবেন। এই আইনের অধীনে কৃত সব কাজকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে।


‘সরল বিশ্বাসকৃত কাজকর্ম’ শিরোনামে বিলের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীনে দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসেকৃত কোনো কাজের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, তজ্জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। ’


বিলটি পাস হওয়ার প্রতিবাদে সম্পাদকেরা মানববন্ধন করার ঘোষণাও দেন। এরপর তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইন, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। সেখানে গণমাধ্যমের আপত্তিতে থাকা ধারাগুলো আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়।


এই আইনের ৩টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন কূটনীতিকরাও। দায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে যে, সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) বাকস্বাধীনতার দমন এবং অপরাধযোগ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা সর্বোপরি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন জনগণের বাক ও মত প্রকাশের অধিকারের সাংবিধানিক অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতিরে একটি কর্মসূচি থেকে এ আইনের সমালোচনা করে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, আমলা ও নেতাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে বাকস্বাধীনতা হরণের সর্বশেষ নজির বলে আখ্যা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।


প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের সদ্য শেষ হওয়া ২২তম অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস হয়। এর মধ্যে গত ১ অক্টোবর ১১টি বিলে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তবে সেই সম্মতিতে ছিলনা এই বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি।


ওই দিন রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেয়া বিলগুলো হলো, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০১৮; বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮; বস্ত্র বিল, ২০১৮; সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০১৮; যৌতুক নিরোধ বিল, ২০১৮; সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) বিল, ২০১৮; জাতীয় পরিকল্পনা উন্নয়ন একাডেমি বিল, ২০১৮; হিন্দু দর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বিল, ২০১৮; বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন বিল, ২০১৮; কৃষি বিপণন বিল, ২০১৮; এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০১৮।


২২তম অধিবেশনে পাস হয়েছে অথচ রাষ্ট্রপতি এখনও স্বাক্ষর করেননি সেগুলো হলো, সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর অধীন কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদ মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান (কওমি মাদরাসা) বিল-২০১৮, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি বিল-২০১৮, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিল-২০১৮, পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরি শর্তাবলি) বিল ২০১৮, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বিল-২০১৮ এবং কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা ট্রাস্ট বিল-২০১৮ পাস হয়।

 


Top