সেন্টমার্টিনের কিছু অংশ দাবি করা তথ্য সরিয়ে নিল মিয়ানমার | daily-sun.com

সেন্টমার্টিনের কিছু অংশ দাবি করা তথ্য সরিয়ে নিল মিয়ানমার

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:১৫ টাprinter

সেন্টমার্টিনের কিছু অংশ দাবি করা তথ্য সরিয়ে নিল মিয়ানমার

 

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য সরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে ওই ভুয়া তথ্য সরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার।


রবিবার (৭ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২০তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক এ তথ্য জানান।


বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এ বিষয়ে জোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এরপর তারা তাদের ওয়েরসাইট থেকে এটি সরিয়ে ফেলেছে।


কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি বৈঠক শেষে বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। কমিটি এ বিষয়ে তৎপর থাকার এবং ওই দেশের অন্য কোনো ওয়েবসাইটে কিংবা অন্য কোথাও এ ধরনের তৎপরতা রয়েছে কিনা তা মনিটর করার সুপারিশ করে।


বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুহাম্মদ ফারুক খান, সেলিম উদ্দিন এবং বেগম মাহজাবিন খালেদ অংশ নেন। বৈঠকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব মো. খুরশেদ আলমসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ


প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যাবিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট সম্প্রতি তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়।

ওই মানচিত্রে মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অন্তর্গত সেন্টমার্টিনকে একই রঙে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভূ-ভাগ চিহ্নিত করা হয় অন্য রঙে।  


এ ঘটনায় শনিবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. খুরশেদ আলমের দফতরে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। এ সময় তার হাতে একটি কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়।


বৈঠকে রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’র হাতে একটি কূটনৈতিক চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়। যাতে সেন্টমার্টিন যে বাংলাদেশের অংশ তার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ রয়েছে। পাশাপাশি ওই চিঠিতে মিয়ানমারের এমন আপত্তিকর কাজের জবাবও চাওয়া হয়।


জবাবে উ লুইন ও জানিয়েছেন, ভুলক্রমে এটা হয়ে থাকতে পারে।


কক্সবাজারের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন সৃষ্টি থেকে বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অন্তর্গত। ব্রিটিশ শাসনাধীনে ১৯৩৭ সালে যখন বার্মা ও ভারত ভাগ হয়, তখন সেন্টমার্টিন ভারতে পড়েছিল।


১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় সেন্টমার্টিন পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশে অন্তর্গত। ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে যে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়, সেখানেও সেন্টমার্টিন দ্বীপপুঞ্জকে বাংলাদেশের অংশই ধরা হয়। আর সর্বশেষ ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতেও এর মীমাংসা করা হয়েছে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখিয়ে।


সূত্র জানায়, শুধু নিজেদের সরকারি ওয়েব সাইটে আপলোড করা মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখিয়ে ক্ষান্ত থাকেনি মিয়ানমার। দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও এ মানচিত্র দিয়েছে দেশটি।


এদিকে সংসদ সচিবালয় পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সদ্য শেষ হওয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতিতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান ও বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন ইতিবাচক মন্তব্য তুলে ধরা হয় এবং বাংলাদেশ যাতে এভাবে এগিয়ে যায় সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

 
বৈঠকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নেতিবাচক অপপ্রচার মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক তৎপর থাকতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

 


Top