‘পাঁচ দফার আলোকে কোটার সংস্কার চেয়েছি, কখনই বাতিল চাইনি' | daily-sun.com

‘পাঁচ দফার আলোকে কোটার সংস্কার চেয়েছি, কখনই বাতিল চাইনি'

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৩৯ টাprinter

‘পাঁচ দফার আলোকে কোটার সংস্কার চেয়েছি, কখনই বাতিল চাইনি'

 

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ফলে যে উদ্ভূত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। রবিবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। এ সময় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, ফারুক হোসেন, আতাউল্লাহ, জসিম উদ্দিন আকাশ, মশিউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


লিখিত বক্তব্যে হাসান আল মামুন বলেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সব সরকারি চাকরিতে ৫ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিল। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কোটা সংস্কার না করে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছে।


তিনি বলেন, আমরা সাধারণ ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করি, তাই আমরা সবসময় পাঁচ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছি। আমরা কখনই কোটার বাতিল চাইনি। তাই এ বাতিলের কারণে উদ্ভূত সমস্যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।


‘এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে কোনো বিশেষ নিয়োগ দেয়া যাবে না। বিশেষ নিয়োগ ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।

সেই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতেও কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে,’ বলেন তিনি।


হাসান আল মামুন আরও বলেন, ছাত্রসমাজের নামে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক যেসব মামলা করা হয়েছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।


একই সঙ্গে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশের জোর দাবি জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলন থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কোটা বাতিল নিয়ে সরকারকে আরও ভাবতে বলেন। তবে কোটা পদ্ধতির সংস্কার করতে হলে অবশ্যই পাঁচ দফার আলোকে করতে হবে বলে জানানো হয়।


প্রসঙ্গত, আগের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।


এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশিরা। তাদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি কোটা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশ জমা দেয়। কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড)  নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করে। সেই প্রস্তাবটিই বুধবার (৩ অক্টোবর) অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।


ওই দিন (৩ অক্টোবর) রাত থেকেই কোটা বাতিলের প্রতিবাদে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০ শতাংশ রাখার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্যরা। তবে আজ রবিবার (৭ অক্টোবর) সকালে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। পরে দুপুরে একই সড়কে অবরোধ করে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের দাবি প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন- তিনি নাকি প্রতিবন্ধী খুঁজে পান না। অথচ জাতিসংঘ, এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীরা প্রতিনিধিত্ব করছেন। কাজেই সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী কোটা অবশ্যই রাখতে হবে এবং সেটা ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করতে হবে।


এদিকে ওই আন্দোলনের মধ্যেই ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

 


Top