আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা | daily-sun.com

আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:১৪ টাprinter

আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

 

ইলিশের প্রজনন সময় শুরু হওয়ায় আজ ৭ অক্টোবর থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন প্রজনন মৌসুমে দেশে ইলিশ মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৬ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।


মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক বলেন, প্রতিবছরের মতো এবছরও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০১৮’ এর আওতায় এ বছর ৭ হতে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন উপকূলীয় চিহ্নিত ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার ‘ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র’সহ দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, এই ২২ দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।


তিনি আরো বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ১ থেকে ২ বছর মেয়াদে জেল অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। একই অপরাধ ২ বার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে।


মহাপরিচালক বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের এই ২২ দিন ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। এ ছাড়াও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেসহ সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না দেওয়া, নদী সংলগ্ন খাল থেকে নৌকা বের হতে না দেওয়া, মাছঘাট সংলগ্ন বাজারের নৌকা ও ট্রলারের জ্বালানি তেলের দোকান বন্ধ রাখা, নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরের মাছঘাটগুলো বন্ধ রাখা প্রভৃতি।


এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে সরকারী প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আপামর জনগণ-বিশেষ করে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আন্তরিক সহযোগীতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন মৎস্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।


এদিকে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহবায়ক করে সহযোগী সকল সংস্থার প্রতিনিধিকে অন্তর্ভূক্ত করে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও দেশব্যাপী বাস্তবায়িত কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরে কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল, বিভাগীয় মনিটরিং টিম এবং সদর দপ্তর ও বিভাগীয় দপ্তরে কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে।


মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আশ্বিন মাসের বড় পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ  নদীতে এসে ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। বেশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্বিঘ্নে যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে সেজন্যই ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  


এদিকে এ ব্যাপারে সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুই দফায় বর্তমান সরকারের ৯ বছরে ইলিশের উৎপাদন ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিলো ২ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন, যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।


মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশের বেশি। কাজেই একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ। দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলেও দাবি করেন তিনি।


নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, বিশ্বে ইলিশের উৎপাদনে বাংলাদেশ একাই ৭০-৭৫ ভাগ উৎপাদন করে। গত ৯ বছরে সার্বিক মাছের উৎপাদনও ২৭ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এটি ২০১৬-১৭ সালের উৎপাদন-লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের চেয়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। তাই ২০১৭-১৮ সালে ইলিশের উৎপাদন যেমন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে তেমনই মাছে উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

 


Top