কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে ফের অবরোধ | daily-sun.com

কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে ফের অবরোধ

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:৪৭ টাprinter

কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগে ফের অবরোধ

 

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ ভাগ কোটাসহ সব ধরনের কোটা বহালের দাবিতে শনিবার (৬ অক্টোবর) চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। দুপুর আড়াইটার দিকে শাহবাগের চারদিকের রাস্তা অবরোধ করে মাঝখানে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা।

এতে শাহবাগ মোড় হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


বিক্ষোভকারীরা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে। নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে।


তাঁরা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। যার পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩০ শতাংশ কোটা দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা আমাদের অধিকার। এ কোটা বাতিল হলে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে অপমান করা হবে। আমরা চাই, এই কোটা বহাল রাখা হোক। ’


এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫১তম সমাবর্তনের জন্য কোটা বহালের দাবিতে শাহবাগ অবরোধের চলমান আন্দোলন শিথিল করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

শুক্রবার (৫ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শনিবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন শিথিল করে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি আতিকুল বাবু গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।


তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি আসবেন। পাশাপাশি অধিক সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শনিবার বিকেল ৩টার সমাবেশ শাহবাগেই অনুষ্ঠিত হবে।   


এর আগে গতকাল শুক্রবারে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য অবরোধ স্থগিত রেখেছিল আন্দোলনকারিরা।


সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ব্যানারে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় জনসাধারণকে।


প্রসঙ্গত, আগের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।


এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশিরা। তাদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি কোটা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশ জমা দেয়। কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড)  নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করে। সেই প্রস্তাবটিই বুধবার (৩ অক্টোবর) অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।


ওই দিন (৩ অক্টোবর) রাত থেকেই কোটা বাতিলের প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করে আসছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।


এদিকে ওই আন্দোলনের মধ্যেই ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

 


Top