২৯ সেপ্টেম্বর বাড়িটি ভাড়া নেয় ‘জঙ্গিরা’ | daily-sun.com

২৯ সেপ্টেম্বর বাড়িটি ভাড়া নেয় ‘জঙ্গিরা’

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৪৩ টাprinter

২৯ সেপ্টেম্বর বাড়িটি ভাড়া নেয় ‘জঙ্গিরা’

 

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জোড়ারগঞ্জ এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে র‌্যাবের ঘিরে রাখা চৌধুরী ম্যানশন নামের ওই বাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র ১০ গজ দূরত্বে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথও বেশি দূরে নয়।

স্পর্শকাতর এমন জায়গায় ‘জঙ্গিরা’ বাড়িটি ভাড়া নেয় মাত্র এক সপ্তাহ আগে। র‌্যাবের দাবি, চট্টগ্রামে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন তারা। গড়ে তুলেছিলেন অস্ত্রের মজুদ।


বাড়ির মালিক মাজহার চৌধুরীর বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুই ব্যক্তি বাড়িটি ভাড়া নেন। তারা চট্টগ্রামের একটি রড নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বলে পরিচয় দিয়েছেন।  


রাতেই বাড়ির মালিক মাজহার চৌধুরী এবং কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে র‍্যাব।  


এদিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে র‌্যাবের ঘিরে রাখা চৌধুরী ম্যানশন নামের ওই বাড়িটির ভেতর দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার (৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে লাশ দুটো বের করে আনা হয়। তবে র‍্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের বিষয়ে কোনো কিছুই জানায়নি।

  


র‌্যাবের দাবি, তারা দুইজনই ‘জঙ্গি’ দলের সদস্য।  


লাশের সঙ্গে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্যও বের করে আনা হয়। সেগুলো ওই বাড়ির সামনে রেখে র‌্যাবের বোম ডিসপোজাল টিম নিষ্ক্রিয় করছে।   


র‌্যাবার জানায়, অভিযান শেষে বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।   


এদিকে এ অভিযান প্রসঙ্গে সকালে সংক্ষিপ্ত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, র‌্যাবের কাছে তথ্য ছিল জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি গ্রুপ সক্রিয় ছিল। বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের শুরুতেই ঘরের ভেতরে থাকা জঙ্গিরা গুলি ছোঁড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।


তিনি বলেন, ভোর ৪টার নাগাদ জঙ্গিরা বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণ ঘটায়। চৌধুরী ম্যানশন নামের বাড়িটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। বড় বিস্ফোরণটি ঘটার আগে তাদেরকে আমরা আত্মসমর্পনের সুযোগ দিয়েছিলাম। তারা সেটি গ্রহণ করেনি। বড় ওই বিস্ফোরণের পর ঘরের ভেতর আর তাদের কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।


চৌধুরী ম্যানশনে ৪-৬ জন জঙ্গি থাকতে পারে ধারণা করে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল সে হিসেবে ৪ থেকে ৫ জন জঙ্গি সদস্য বাড়ির ভেতরে থাকতে পারে। বোমা ডিসপোজাল ইউনিট বাড়িটির ভেতর ঢুকে কাজ করছে। ৩০ মিনিট সময় লাগবে। তারা বেরুনোর পর আমরা সব তথ্য আপনাদের জানাতে পারব। ’


এদিকে, জঙ্গি আস্তার খবর পেয়ে সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরাগঞ্জের বাড়ির অদূরে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। তবে তাদের বাড়ির কাছে ভিড়তে দিচ্ছে না র‍্যাব।

 


Top