জাতিসংঘের উদ্বেগ উপেক্ষা করে ৭ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করল ভারত | daily-sun.com

জাতিসংঘের উদ্বেগ উপেক্ষা করে ৭ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করল ভারত

ডেইলি সান অনলাইন     ৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:২৯ টাprinter

জাতিসংঘের উদ্বেগ উপেক্ষা করে ৭ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করল ভারত

 

ভারতের আসামের একটি বন্দিশিবিরে থাকা সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো বন্ধ করতে দায়ের করা একটি রিট আবেদন দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাদের আসাম থেকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।


আসামে থাকা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এটাই সরকারের প্রথম পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিবৃতি গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ভারতের নাগরিক নন। তারা অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের নাগরিক হিসেবে মিয়ানমারকেই গ্রহণ করতে হবে।


গতকাল শপথ নেয়া ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈই বলেন, প্রথমত তারা মিয়ানমারের নাগরিক বলে স্বীকৃত। এ বিষয়ে আমরা কি বলতে পারি? সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা বাধা দিতে চাই না।


বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইনে নির্যাতনের শিকার হয়ে ৪০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো এ সাত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দায়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ভারতীয় কারাগারে আটক ছিলেন।

 


যেখানে মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম নাগরিক পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সেখানে ভারতের এমন পদক্ষেপ জাতিসংঘের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বলপূর্বক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে ভারত।


জাতিসংঘের বর্ণবাদবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টার টেনডিই আচিউম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, নির্যাতন, ঘৃণা ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বীকার করতে ভারত সরকারের আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব রোহিঙ্গা নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার। কাজেই তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে হবে।


জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার আরেক কর্মকর্তা বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মতো নিরাপদ নয়।


জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মতে, রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতকে মিয়ানমারের উপর প্রভাব খাটাতে হবে। রোহিঙ্গারা বর্তমান পরিস্থিতিতে সহজেই ওখানে ফিরতে চাইবেন না। কারণ তারা ভয় পাবে। ওখানে এখন যা অবস্থা তাতে সম্মানের জীবন নিয়ে বাঁচতে পারবেন না তারা।


ওই সাত রোহিঙ্গা কেন্দ্রীয় রাখাইন রাজ্যের নাগরিক। তাদের মিয়ানমারের কাছে হস্তারের উদ্দেশে বুধবার বাসে করে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতের শীর্ষ আইনজীবী তুষার মেহতা বলেন, এই রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্রের সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে মিয়ানমার দূতাবাস।

 


Top