জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ, খেলাপি ঋণে বাজেটে চাপ আসবে: বিশ্বব্যাংক | daily-sun.com

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ, খেলাপি ঋণে বাজেটে চাপ আসবে: বিশ্বব্যাংক

ডেইলি সান অনলাইন     ২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:২০ টাprinter

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ, খেলাপি ঋণে বাজেটে চাপ আসবে: বিশ্বব্যাংক

 

চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়নসহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তবে এজন্য আর্থিক খাতে বেশ কিছু সংস্কার করতে হবে।

তাহলে গত কয়েক বছরের ন্যয় আগামীতেও ভালো প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।


মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে উপস্থাপিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার মহাসড়কে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে এবং তা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। আর এটা করতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে। এই ঘাটতি আগামীতেও বাড়তে পারে। তবে ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশের ঋণের বোঝা একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ বা অসহনীয় হয়ে যাবে না।


তিনি আরও বলেন, ইদানিং বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সাসটেইনিবিটি অ্যানালাইসিস করেছে, তাতে দেখা যায় এখনও জিডিপির অনুপাতে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্ব থেকে নেয়া বাংলাদেশের যে ঋণ, তা খুব একটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাওয়ার আশঙ্কা কম। তবে ঝুঁকি আছে যদি রপ্তানি বাজার স্লো ডাউন হয়, বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকাতে।

এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেখানে যদি কোনও ধরনের বাধা তৈরি হয়, তবে অগ্রযাত্রা ঝুঁকিতে পড়বে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রফতানি ও রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারায় বছর শেষে এই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে।

 


জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক গ্রোথ এখন ভালো অবস্থানে আছে। আমাদের জিডিপির পরিমাণ ৭ বা ৬ শতাংশ বড় কথা নয়, আমাদের গ্রোথ ধরে রাখতে হবে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নগামী, এটা ধরে রাখতে হবে।


প্রসঙ্গত, সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের শেষে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এবার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।


বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন তুলে ধরে জাহিদ হোসেন জানান, দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে এর পরিমাণ ৪৮ শতাংশ। এতে বাংলাদেশে মূলধন ঘাটতি দেখা দেবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

খেলাপি ঋণের কারণে আগামী বাজেটে চাপ আসবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। একইসঙ্গে বাজেটে চাপ মোকাবেলায় আর্থিক খাত সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।  


বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ঢাকায় এ সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান ছাড়াও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


চিমিও ফান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে। এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এজন্য আর্থিক খাতের বেশ কিছু ইস্যুতে সংস্কার আনা প্রয়োজন।


অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর বলেন, আমাদের দেশে মেগা প্রকল্প সব ঋণের ওপর নির্ভরশীল, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। এখন বিলিয়নের হিসাব চলছে কিন্তু আমরা চাই সবুজের সঙ্গে থাকতে, লালের সঙ্গে না। আমরা যেন অন্য দেশের মতো ঋণগ্রস্ত হয়ে না পড়ি এ বিষয়ে সব থেকে গুরুত্ব দিতে হবে।


সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিটি প্রকল্পে শুরু থেকে যা ব্যয় দেখানো হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে এর বাজেট বেড়ে যায়। আমরা এখন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের দিকে যাচ্ছি। যে কোনো প্রকল্পেই আমাদের ঋণ না নিয়ে এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে হবে। তার ভালো-খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আমরা মধ্যম আয়ের কথা বলছি, অথচ আমাদের দেশে এখনও ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দরিদ্র। তাদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। মানুষ দেশের বাইরে যায় কিন্তু রেমিটেন্স কমে যাচ্ছে এ বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।

 


Top