যে কারণে বিয়ে করেননি লতা মঙ্গেশকর | daily-sun.com

যে কারণে বিয়ে করেননি লতা মঙ্গেশকর

ডেইলি সান অনলাইন     ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৮ টাprinter

যে কারণে বিয়ে করেননি লতা মঙ্গেশকর

ভারতীয় সুর-সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী ছিল গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর। এবার ৮৯ বছরে পা রাখলেন গানের পাখি লতাজি।

গত আট দশক ধরে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে কাজ করছেন তিনি। গান গেয়েছেন তিরিশটিরও বেশি ভাষায়। এক অবারিত সুরের জাদুতে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন উপমহাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে। শুধু ভারতই নয় সমগ্র উপমহাদেশে লতা মঙ্গেশকর আর দ্বিতীয়টি নেই। যার তুলনা শুধু তিনি নিজেই। তাঁর সঙ্গীত ভারত ছাপিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বসঙ্গীতের দরবারে।

 

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতিপ্রেমী মধ্যবিত্ত মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লতা। পণ্ডিত দিনানাথ মঙ্গেশকরের বড় মেয়ে লতার জন্ম মধ্য প্রদেশের ইন্দোরে। প্রথমে লতার নাম রাখা হয় ‘হেমা’।

জন্মের পাঁচ বছর পর তার নাম বদলে রাখা হয় লতা। ভাইবোনদের মধ্যে লতা সবার বড়। পিতা পণ্ডিত দিনানাথ ছিলেন থিয়েটার অভিনেতা এবং গায়ক। তার বেড়ে ওঠাটা মহারাষ্ট্রেই। সাত বছর বয়সে এই শহরে পৌঁছান ভারতের এই সুর সাম্রাজ্ঞী। পাঁচ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

 

তিনি শৈশব থেকেই গায়িকা হতে চেয়েছিলেন। পিতা ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুরাগী। এজন্য সম্ভবত, তিনি লতার চলচ্চিত্রে গান করার বিরুদ্ধে ছিলেন। ১৯৪২ সালে তার পিতা মারা যান এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর লতা মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্রে ছোট ভূমিকায় কাজ শুরু করেন।

 

প্রথমবার মঞ্চে গান গেয়ে লতা ২৫ টাকা পারিশ্রমিক পান। এটাই তার জীবনের প্রথম উপার্জন। ১৯৪২ সালে প্রথমবার মারাঠা চলচ্চিত্র ‘কিতী হাসাল’-এর জন্য গান গেয়েছিলেন সঙ্গীতের এই চিরকুমারী। শৈশবকালে কুন্দনলাল সেহগলের চলচ্চিত্র ‘চণ্ডীদাস’ দেখে তিনি বলেছিলেন, বড় হয়ে সেহগলকেই বিয়ে করবেন তিনি।

 

কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। সংসারী না হওয়ার বিষয়ে পরে তিনি জানিয়েছেন- ‘পরিবারের সকল সদস্যের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের চিন্তা মাথায় এলেও সেটাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা ভাবতেই পারেননি তিনি। সঙ্গীতকেই জীবনের একমাত্র অবলম্বন বেছে নেন লতা মুঙ্গেশকর। এভাবেই সবার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের প্রতি অবহেলায় জীবনের ৮৮টি বসন্ত কাটিয়েছেন একাকিত্বে।

 

কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে প্রসঙ্গে লতা বলেছিলেন- ‘সব কিছুই স্রষ্টার ইচ্ছাতে হয়। যা হয় তা ভালোর জন্যেই হয় আর যা হয়না তা আরো বেশি ভালোর জন্যই। বিয়ে করার সুযোগ আমি কখনও পাইনি আর এ ব্যাপারে কখনও চিন্তাও করিনি। আমি এখন যেমন আছি তাতেই অনেক সুখী । জাগতিক বিষয়গুলো এখন আর আমাকে স্পর্শ করে না। ’

 

তিনি ভারতের প্রধান সুরকারদের প্রায় সবার সঙ্গেই কাজ করেছেন। তিনি প্রায় সব ধরণের গানই করেছেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে রোমান্টিক গান, এমনকি ভজনও গেয়েছেন তিনি। লতা মুঙ্গেশকর প্রায় ৩৬টি ভাষায় গান করেছেন। এর মধ্যে আছে বাংলাও। ‘প্রেম একবার এসেছিল নীরবে’, ‘আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন’, ‘ও মোর ময়না গো’, ‘ও পলাশ ও শিমুল’, ‘আকাশ প্রদীপ জ্বেলে’সহ আরো অনেক কালজয়ী বাংলা গানের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

 


Top