ডিএমপি’র যে ২২ শর্তে জনসভার অনুমতি পেল বিএনপি | daily-sun.com

ডিএমপি’র যে ২২ শর্তে জনসভার অনুমতি পেল বিএনপি

ডেইলি সান অনলাইন     ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:০১ টাprinter

ডিএমপি’র যে ২২ শর্তে জনসভার অনুমতি পেল বিএনপি

 

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা করার অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ২২টি শর্তে এই জনসভা করার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।


বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর এ্যানি ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।  


বিএনপিকে দেয়া ডিএমপি’র ২২টি শর্তের মধ্যে রয়েছে-


- সমাবেশে আইনশৃংখলা পরিপন্থী, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করা যাবে না।


- উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য এবং প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।


- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে- এমন কোনো ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করা যাবে না।


- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।


- নিরাপত্তা ও শৃংখলা নিশ্চিত করতে আইডি কার্ডসহ নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ করতে হবে।


- স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।


- নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে।


- নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে আসা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করতে হবে।


- নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।


- অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না।


- অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়ক ও ফুটপাতে প্রজেকশন ব্যবহার করা যাবে না।


- অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়কে অথবা ফুটপাতে সমবেত হওয়া যাবে না।


- আজান, নামাজ এবং ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক চালু রাখা যাবে না।


- জনসভার মঞ্চ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।


- জনসভার ২ ঘণ্টা আগে মানুষ জনসভাস্থলে আসতে পারবে।


- বিকাল ৫টার মধ্যে জনসভা শেষ করতে হবে।


- মিছিলসহকারে জনসভায় আসা যাবে না।


- ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠিসোটা, রড আনা যাবে না।


- শর্ত না মানলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমতি বাতিল বলে গণ্য হবে।


- জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এ অনুমতি বাতিল করতে পারবে।


উল্লেখ্য, শনিবার ১৪ দলের এ কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির একটি আশঙ্কা ছিল। বিএনপিও শনিবার সমাবেশ করতে চেয়েছিল। তবে বিএনপিকে শনিবারের পরিবর্তে রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হয়েছে।


এর আগে প্রথমে জনসভার জন্য বিএনপি ২৭ সেপ্টেম্বর অনুমতি চায়। এরপর দু’দিন পিছিয়ে ২৯ তারিখ চাওয়া হয়। আর সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ৩০ তারিখের জন্য আবেদন করে বিএনপি।


ওই দিন ডিএমপি সূত্র জানায়, বিএনপি ৩০ সেপ্টেম্বর জনসভার দিন রেখে নতুন করে একটি আবেদন জমা দিয়েছে। ওইদিন তাদের জনসভার অনুমতি দেয়া হবে কিনা তা শুক্রবার ডিএমপি থেকে জানানো হবে।


কিন্তু শুক্রবারও অনুমতির বিষয়ে কিছু জানানো না হলে দলটি প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।


এদিকে জনসভার অনুমতি না পেলে তাৎক্ষণিক কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল।  

 


Top