কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব হারালেন সু চি | daily-sun.com

কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব হারালেন সু চি

ডেইলি সান অনলাইন     ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৪ টাprinter

কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব হারালেন সু চি

 

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের কারণে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর যথাযথ সমাধান না করায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিল করে দিল কানাডা। শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে এ সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাশ হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার হাউস অব কমন্সের এমপিরা সর্বসম্মতিক্রমে সু চির নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে ভোট দেন।


অং সান সুচি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকাকালীন ২০০৭ সালে কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব পান। কিন্তু মিয়ানমারের এ নেত্রী দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের জন্য দায়ী। যার কারণে রাজ্যটির সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এ নির্যাতনকে জাতিগত নিধন অভিযানের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে।


কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের মুখপাত্র অ্যাডাম অস্টিন বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য বিশ্বসম্প্রদায়ের নিন্দাকে ক্রমাগতভাবে অস্বীকার করায় তার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো কানাডার পার্লামেন্ট।


তিনি আরো বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দেয়া অব্যাহত রাখবো এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবো।


এর আগে বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, পার্লামেন্ট তাকে সম্মানজনক নাগরিকত্ব দিয়েছিল।

তাই এ বিষয়ে আমরা অবশ্যই আলোচনা করতে পারি। কিন্তু একটা জিনিস আমি পরিস্কার করে বলছি যে, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির কানাডার নাগরিকত্ব আছে কি নেই, সেটি সম্মানসূচক নাকি সম্মানসূচক নয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এটা কোনো পার্থক্য করে না।


কিন্তু কমন্সের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না কারণ কারও সম্মানজনক নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে কানাডার পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে একটি যৌথ প্রস্তাব গ্রহণ করতে হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই একসঙ্গে কারও নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে হবে।


এর আগে গত সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা স্বীকৃতি দিয়ে প্রস্তাব পাস করে কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স।


মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবদান রাখার জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল পুরস্কার পান অং সান সু সু চি। এরপর কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ২০০৭ সালের সু চিকে কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়। সু চি ছাড়া আরও পাঁচজনকে কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন দালাইলামা, নারী শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফজাই এবং নেলসন ম্যান্ডেলা।

 


Top