পর পর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন ঝুঁকিতে | daily-sun.com

পর পর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন ঝুঁকিতে

ডেইলি সান অনলাইন     ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩৮ টাprinter

পর পর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন ঝুঁকিতে

 

যেসব রাজনৈতিক দল গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি ও এরপর উপ-নির্বাচনেও পর পর দু’বার অংশগ্রহণ করবে না, তাদের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বিএনপিও।


মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি একটি আসনেও নির্বাচন না করে তাহলে নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তবে আরও অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া থেকে যায়। কতগুলো দলের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেটি পরিসংখ্যান করা হয়নি।


প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে দলটির নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।


সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ৩০ অক্টোবরের পরে যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।


তিনি বলেন, আমরা প্রস্তুতি হিসেবে ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্রের তালিকা পেয়েছি।

এগুলো মোটামুটি ফাইনাল হয়ে গেছে। তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।


হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ থেকে ১০ আঞ্চলিক অফিসে ভোটার তালিকার সিডি পাঠানোর কাজ শুরু করবো। প্রথমে সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে পাঠাবো। বাকিগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে। নিয়মিত কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে।  


তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যতগুলো শাখা রয়েছে, প্রতিটি শাখার সঙ্গে আমরা কথা বলছি। নির্বাচনে যাতে কোনো ভুল ভ্রান্তি না হয় সে বিষয়ে তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সামনে নির্বাচন কমিশন সভায় যাতে সব ধরনের তথ্য তুলে ধরা যায়, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।


সচিব বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যারা কাজ করবেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ারও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পরই এটি শুরু হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অঞ্চলভিত্তিক হবে। যারা তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন তাদের প্রশিক্ষণও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।


ইভিএম বিষয় তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহার করবে কি করবে না সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আরপিও সংশোধন হলে এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এই সংসদে এটি নাও হয়, আমাদের অনেক স্থানীয় নির্বাচন আছে, সেখানে আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারব।


সংসদে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাবটি পাস না হলে বিদ্যমান আইনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি ।


তিনি বলেন, কমিশন থেকে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তারা মিটিং করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন। মন্ত্রিসভায় যদি এটি অনুমোদন হয়, তাহলেই সংসদে যাবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এটি কোন পর্যায়ে আছে তার তথ্য পাইনি। যদি এটি সংশোধন হয় তাহলে ভালো, আর না হলেও তার প্রস্তুতি আছে। আগের আরপিও দিয়েও নির্বাচনের সকল কর্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে বিদ্যমান আরপিও দিয়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 


Top