বুড়িমারী ও মোংলা বন্দরে বছরে ঘুষ বাণিজ্য ৩১ কোটি টাকা: টিআইবি | daily-sun.com

বুড়িমারী ও মোংলা বন্দরে বছরে ঘুষ বাণিজ্য ৩১ কোটি টাকা: টিআইবি

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:২১ টাprinter

বুড়িমারী ও মোংলা বন্দরে বছরে ঘুষ বাণিজ্য ৩১ কোটি টাকা: টিআইবি

 

বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন এবং মোংলা বন্দর ও কাস্টম হাউজের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়। রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) টিআইবির কার্যালয়ে মোংলা বন্দর ও কাস্টম হাউজ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন: আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।


দেশের অর্থনীতিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর ও মোংলা বন্দর ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু এই দুই বন্দরের সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরনের উপায় নিয়ে পরিচালিত টিআইবির গবেষণায় ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।  


টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোংলা কাস্টম হাউজ থেকে ৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা এবং বন্দর থেকে ২২৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আর বুড়িমারী কাস্টম হাউজ থেকে ৪৫ কোটি এবং বন্দর থেকে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।


বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমপক্ষে ১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূত লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে শুল্ক স্টেশনে আমদানির ক্ষেত্রে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ও রফতানির ক্ষেত্রে ৩৪ লাখ টাকা। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানির ক্ষেত্রে ৪৩ লাখ টাকা ও রফতানির ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা নিয়মবহির্ভূত আদায় করেছে। বাকি ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা মোটর শ্রমিকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়েছে।


অন্যদিকে মোংলা কাস্টম হাউজ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিয়মবহির্ভূত গাড়ি থেকে ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, কন্টেইনার থেকে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বাল্ক থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা নিয়েছে।

আর মোংলা বন্দরের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায় করা হয়েছে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে গাড়ি থেকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, কন্টেইনার থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং বাল্ক থেকে ৫৮ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুই প্রকার দুর্নীতি। একটি হচ্ছে যোগসাজশের দুর্নীতি, অন্যটি বলপূর্বক অর্থ আদায়ের দুর্নীতি, যেটি ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে। তা উভয় বন্দরেই দেখতে পেয়েছি। এটা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। সেখানে যারা অংশীজন তাদের সবারই এক ধরনের সিন্ডিকেটের মতো যোগসাজশ আমরা দেখতে পাই। ’


সেবাগ্রহীতারা বন্দরের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়েই ঘুষ দিয়ে থাকে বলে জানায় টিআইবি। সেই সঙ্গে শুল্কফাঁকির জন্যও অনিয়মের পথ বেছে নিচ্ছে বলে জানায় সংস্থাটি। বন্দরের ডিজিটাইজেশন এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিরসন করা গেলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন্দরের এই দুর্নীতি আইনের চোখে প্রমাণিত না, যে কারণে আমরা এটাকে অভিযোগ বলছি। যারা প্রত্যক্ষভাবে দুর্নীতির শিকার হয়ে, নিজেরাও দুর্নীতির অংশীদার হয়ে যাচ্ছে তাদের তথ্য এবং অন্যান্য অংশীজন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করেছি। আমাদের ম্যাথলজি অনুযায়ী প্রমাণিত বিধায় আমরা এটাকে (দুর্নীতি) বলছি।


আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা বলেন জোর করে টাকা নিচ্ছি না…, তারা যারা দুর্নীতি করেন তারা তো বিভিন্নভাবে সেটা ব্যাখ্যা করেন। এটা অনেকে স্পিড মানি বলে থাকেন, আমাদের সরকারের একাংশ থেকেও আমরা সেটা শুনে থাকি। তবে আমরা সেটাকে দুর্নীতিই বলি।


‘বকশিস হিসাবে যে অতিরিক্ত টাকা দেয়া হয় সেটা খুশি হয়ে দিচ্ছি এটা কেউ স্বীকার করবে না। তারা কিন্তু জিম্মি হয়ে দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন এবং জিম্মি হয়ে দুর্নীতির অংশীদারও হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের জাতীয় খানা জরিপে ৮৯ শতাংশ মানুষ যারা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা বলেছেন- ঘুষ না দিলে আমরা সেবা পাবো না, কাজেই ঘুষ দিতে বাধ্য হয়’ যোগ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।


ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সত্যিকার অর্থে আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ চায় তাহলে সেটা সম্ভব, শুধু যেটা দরকার সেটা সদিচ্ছা। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের বার্তা পৌঁছানো যে অনিয়ম করলে, দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হয়।

 


Top