চল না বেরিয়ে পড়ি সাইকেল নিয়ে: দেশের পথে | daily-sun.com

চল না বেরিয়ে পড়ি সাইকেল নিয়ে: দেশের পথে

আবুল হোসেন আসাদ, সাইক্লিস্ট ও সাইকেলে বিশ্ব ভ্রমণকারী     ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:২৩ টাprinter

চল না বেরিয়ে পড়ি সাইকেল নিয়ে: দেশের পথে

হাল ফ্যাশনের তরুণ-তরুণীরা চায় বৈচিত্র্যের সন্ধান। জীবনের ঘ্রাণ।

নাগরিক জীবনের একঘেয়েমি, ফেসবুক, টুইটার , ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ ডিজিটাল জীবনের নানা উপকরণ জীবনে দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ আনলেও অনেকের কাছেই একটু বাড়তি চাহিদা থাকে সোঁদা মাটির পরশ, নৈসর্গিক সৌন্দের্য্যের সুধাপান, জীবনের উচ্ছ্বাস, ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন পরিবেশে মাঝে আনন্দের অনুসন্ধান, আবার একই সাথে মাটি, মানুষ ও দেশ সম্পর্কে জানার স্পৃহা। পাহাড়, পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রের হাতছানি। সেজন্য বেরিয়ে পড়তে হবে একা কিংবা দল বেঁধে সাইকেল নিয়ে। তাই কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ভাই ও বোনেরা চলো না বেরিয়ে পড়ি আজ সাইকেল নিয়ে অজানার পথে, দেশের পথে-- লেটস গো ফর বাইসাইকেল।

পিচঢালা রাস্তায় চলার জন্য রয়েছে রোডবাইক, আর উঁচু-নিচু পথ, ঢালু কিংবা  পাহাড়ী পথ পাড়ি দিতে প্রয়োজন  মাউন্টেইন বাইক। মাউন্টেইন বাইক এবং রোডবাইকের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সুবিধাদি একত্র করে তৈরি করা হয়ে থাকে হাইব্রিড বাইক। দ্রুতগতিতে চলার জন্য রয়েছে চিকন ও হালকা ওজনের বাইসাইকেল যা রেসিং সাইকেল বা স্পোর্টস বাইক নামে পরিচিত। বিশেষ উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনের তাগিদে তৈরি করা বাইকগুলো মুলত স্পেশিয়ালিটি বাইক হিসেবে গণ্য করা হয়। ইলেকট্রিক বাইসাইকেলগুলো ঠিক এই  ধরনের স্পেশিয়ালিটি  বাইক।

আরেক ধরনের বাইসাইকেল রয়েছে যা ট্যানডেম নামে পরিচিত। ট্যানডেম বাইসাইকেলে দুটি সিট থাকে। দুই সিটে দুইজন বসে। দুইজন চালকের প্রয়োজন হয় ট্যানডেমে। প্রথম সিটটিতে যে বসে  সেই মুলত ট্যানডেম চালিয়ে নেয়। প্রথমজনই তাই পাইলট বা প্রধান চালক।

এলুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি বাইসাইকেল কিছুটা হালকা এবং দ্রুতগামী হয়। অনেকেরই প্রথম পছন্দ থাকে এলুমিনিয়ামের তৈরি বাইসাইকেল বা এ্যালয় বাইসাইকেল। কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি সাইকেল সবচেয়ে বেশি দামি এবং দ্রুতগামী। এই ধরনের সাইকেল অনেক কম ওজনের হয়। ওজন ছাড়াও রয়েছে গিয়ারের ভিন্নতা। কোনো কোনো সাইকেলের আবার গিয়ার ফিক্সড করাও থাকে। গিয়ারের মতো ব্রেকেরও ভিন্নতা রয়েছে। ভি ব্রেকের তুলনায় অনেকেই  ডিক্স-ব্রেক বা ম্যাকনিক্যাল ব্রেকই বেশি পছন্দ করে থাকে।

 

যারা দেশের পথে প্রান্তরে সাইকেল চালাতে ইচ্ছুক বা নতুন সাইকেল চালানো শিখেছে তাদের প্রচণ্ড উৎসাহ থাকে দ্রুত গতিতে সাইকেল চালানো। একবারে নতুনদের উচিত সাইকেলের ব্যালেন্স ও দক্ষতা পুরোপুরি আয়ত্ব না হওয়া পর্যন্ত বড় রাস্তায় কিংবা হাইওয়েতে সাইকেল না চালানো। একটা বিষয় সবসময় খেয়াল রাখা উচিত হাইওয়েতে দ্রুত গতিতে সাইকেল চালানো ঠিক না। কারণ দ্রুতগতি সবসময় দ্রুততার সাথে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। সাঁই সাঁই করে ছুটে চলা বাস বা ট্রাকগুলো প্রায়শই একটি অপরটিকে ওভারটেকিং করে কিংবা দ্রুত গতিতে চলতে থাকে তাই উচিত হবে পারতপক্ষে হাইওয়ে এড়িয়ে গিয়ে বাইপাস বা বিকল্প রাস্তায় সাইকেল চালানো যেখানে যানবাহনের চলাচল কম থাকে ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কম থাকে। সাইকেল রেসের জন্য বা দ্রুত তালে চালাতে হলে যেসব রাস্তায় যানবাহন একেবারে  কম সেসব রাস্তায় যেতে হবে।

সাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই হেলমেট, গ্লাভস ও চশমা পরতে হবে। দুর্ঘটনায়  মাথায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাই হেলমেট পরা আবশ্যক। সাইকেল থেকে পড়ে গেলে হাত দিয়ে যাতে শরীরের ভর রক্ষা করা যায় সেজন্য  গ্লাভস পরা উচিত, যাতে পিচঢালা রাস্তায় হাতের চামড়া ছিঁড়ে না যায়। রাস্তার ধুলাবালি  চোখে ঢুকে যেন কোনো সমস্যা না করে সেজন্য চোখে সানগ্লাস কিংবা চশমা পরা উচিত। যানবাহনের ধোয়া ও ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করাটাও জরুরি।

 

চলতি পথে কখনো দ্রুত অথবা অযথা ওভারটেক করা ঠিক না। রাইডের শুরুতেই সাইকেল পরীক্ষা করে নিতে হবে। সাইকেলের স্যাডল থেকে শুরু করে ব্রেক, গিয়ার কম্বিনেশন ঠিক মতো হয়েছে কিনা, চাকায় সঠিক মাত্রায় বাতাস রয়েছে কিনা সব ঠিক মতো দেখে নিতে হবে।

গ্রুপ রাইডের সময় সামনে স্পিড-ব্রেকার পড়লে কিংবা রাস্তা ভাঙাচোরা থাকলে অথবা গর্ত থাকলে সেক্ষেত্রে দলের অন্যান্য সদস্যদের জানিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া দলের সবার সাথে একই গতিতে ধীরস্থিরভাবে সাইকেল চালাতে হবে। দলছুট হওয়া যাবে না। গ্রুপ রাইডের বেলায় বা দেশের যে কোনো প্রান্তে সাইকেল চালানোর জন্য বা সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হলে প্রথমেই দরকার একটি ভালো ব্রান্ডের সাইকেল। তাহলে সাইকেলে বেরিয়ে পড়ার সময়  যা লাগবে তা দেখে নেই এক নজরে—

 

১.         ভ্রমণ পরিকল্পনা - কোথায় ভ্রমণ করা হবে, কতদিন থাকা হবে, কোন রাস্তায় যেতে হবে তার মানচিত্র , কীভাবে যেতে হবে তার  খুঁটিনাটি ও যাবতীয় তথ্য কাগজে লিপিবদ্ধ করে পরিকল্পনা প্রণয়ন।

২.         প্রয়োজনীয় খরচের জন্য টাকা।

৩.        বাইসাইকেল।

৪.         হেলমেট

৫.         সানগ্লাস

৬.        গ্লাভস

৭.         টি শার্ট বা শার্ট অবশ্যই সুতির ও ঢিলেঢালা হলে ভালো।

৮.        নি-ব্যান্ড ।

৯.         প্যান্ট বা থ্রিকোয়ার্টার ট্রাউজার

১০.       লুংগি, টাওয়েল বা গামছা

১১.       শেভিং কিট, মেয়েরা সাইকেল ভ্রমণে গেলে তাদের মেয়েলী উপকরণ সমূহ।

১২.       পাম্পার এবং চাকার মাপ অনুযায়ী একটি অতিরিক্ত টিউব।

১৩.      লুবওয়েল, এ্যালানকি এবং কিট প্যাক।

১৪.       এক টুকরা নরম কাপড় চেইন পরিষ্কার করার জন্য।

১৫.       একটি পানির বোতল ব্যাগের ভিতরে নিতে হবে। সাইকেলের সাথে সংযুক্ত বোতলেও পানি ভরে নিতে হবে। সাইকেল চালানোর পর শরীর প্রচুর ঘেমে যায় এবং  পিপাসা পায় তাই একটু জিরিয়ে নিয়ে অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে।   একবারে বেশি পানি পান করা যাবে না।  

১৬.      খাবার সালাইন-- বিশেষ করে একেবারে নতুনরা অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠবে তাই একটু পর পর স্যালাইন পান করতে হতে পারে।

১৭.       খেজুর, গ্লুকোজ, ম্যাংগোবার, বিস্কুট, আপেল, নাসপতি কিংবা এই ধরনের ফল যা ব্যাগে বহন করা যায় কেননা সাইকেল রাইডের পর প্রচুর ক্ষিদে লাগে।

১৮.      সাইকেল ভ্রমণের জন্য উপযোগী পিঠে বহন করা একটি ব্যাগ যাতে উপকরণগুলো ভরে নেওয়া যায়। রাইডের সময় ব্যাগটি পিঠে বহন করে সাইকেল চালানো যায়।

১৯.      ২টি  কর্ড যাতে করে ব্যাগ পিঠে বহন করা সমস্যা হলে সাইকেল ক্যারিয়ারে ব্যাগ বহন করা যায়।

২০.       প্রাথমিক প্রতিবিধান সামগ্রী। স্যাভলন ক্রিম, পেইন কিলার, ভিটামিন সি, স্টমাকে সমস্যা হলে বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কারো থাকলে সেজন্য প্রয়োজনীয়  ওষুধ নিয়ে নেওয়া।

২১.       কিছুই ফেলে না আসা। অর্থাৎ যেখানেই ভ্রমণ করা হোক না একটি জিনিস মনে রাখতে হবে যে দরকারি কোনো জিনিস সেখানে ফেলে রেখে আসা যাবে না এবং যত্রতত্র ময়লাও ফেলে রাখা আসা যাবে না । ময়লা ফেলতে হবে নির্ধারিত স্থানে।

 


Top