এসকে সিনহা বই লিখে মনগড়া কথা বলছেন: কাদের | daily-sun.com

এসকে সিনহা বই লিখে মনগড়া কথা বলছেন: কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৩ টাprinter

এসকে সিনহা বই লিখে মনগড়া কথা বলছেন: কাদের

 

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বই লিখে মনগড়া কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সত্য কথা বললে প্রধান বিচারপতি থাকাবস্থায় বলেননি কেন, ক্ষমতায় না থাকার অন্তর্জালা মেটানোর জন্য তিনি এসব বলছেন।


বৃহস্পিতবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক-পূর্ব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।


তিনি বলেন, তিনি (এস কে সিনহা) সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে? ক্ষমতা যখন থাকে না তখন অনেক অন্তর্জ্বালা গড়ে ওঠে।


ওবায়দুল কাদের বলেন, এস কে সিনহা এখন বইতে যা লিখেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতি হিসেবে কেন তার ছিল না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরনো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। তিনি যদি সত্যই বলতেন, তাহলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভুতুড়ে কথা চাপছেন। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? এর যৌক্তিকতা নেই।


বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে সাবেক এ প্রধান বিচারপতির বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি।

’ ৬১০ পৃষ্ঠার এই বইটি অ্যামাজনের কিন্ডেল সংস্করণে বিক্রি হচ্ছে। বইয়ের চুম্বক অংশ অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।


এখানে বইটির মুখবন্ধের কিছু অংশের অনুবাদ দেয়া হলো: সিনহা লেখেন, "প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের অন্যান্য সদস্য ও মন্ত্রীরা পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে যাবার জন্য আমার কঠোর নিন্দা করেন। প্রধানমন্ত্রী সহ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা আমার বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে বদনাম করতে শুরু করেন। "


"আমি যখন আমার সরকারি বাসভবনে আবদ্ধ, আইনজীবী এবং বিচারকদের আমার সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছিল না, তখন সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় - আমি অসুস্থ. আমি চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েছি। "


"একাধিক মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবো। "


"অক্টোবরের ১৪ তারিখ, যখন আমি দেশ ছাড়তে বাধ্য হই - তখন একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে আমি পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টায় একটি বিবৃতি দেই যে আমি অসুস্থ নই এবং আমি চিরকালের জন্য দেশ ছেড়ে যাচ্ছি না। "


"আমি আশা করছিলাম যে আমার প্রত্যক্ষ অনুপস্থিতি এবং আদালতের নিয়মিত ছুটি - এ দুটো মিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সহায়ক হবে এবং শুভবুদ্ধির উদয় হবে, সরকার ওই রায়ের যে মর্মবস্তু - অর্থাৎ বিচারবিভাগের স্বাধীনতা যে জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর - তা বুঝতে পারবে। "


"শেষ পর্যন্ত দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা - যার নাম ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স - তাদের ভীতি প্রদর্শন এবং আমার পরিবারের প্রতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে আমি বিদেশ থেকে আমার পদত্যাগপত্র জমা দেই। "


সিনহা লেখেন, তার এ বইতে তার ব্যক্তিগত ও বিচার বিভাগে কর্মজীবনের কথা, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি চ্যালেঞ্জসমূহ, বিচারবিভাগ ও রাজনীতিবিদদের মূল্যবোধের অবক্ষয়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পুলিশের বাড়াবাড়ি, জরুরি অবস্থার প্রভাব, এবং "ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের অর্থ আদায়ের" বিবরণ আছে।


বিচারপতি সিনহার বই-এর একটি মুখবন্ধ রয়েছে যাতে তিনি সংক্ষেপে "বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্ব" বর্ণনা করেছেন এবং তার ভাষায় কী পরিস্থিতিতে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ ত্যাগ করে বিদেশে গিয়েছিলেন তা লিখেছেন।


এসকে সিনহার লেখা বইয়ের এসব দাবিরই কঠোর সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলে দলে জনে জনে যে ঐক্যের কথা আসছে, এতে করে কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলবে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কি জনপ্রিয়তা কমে যাবে? আমার বিশ্বাস দলের সংখ্যা বাড়িয়ে এদেশে একসময় ৭৬ পার্টির ঐক্য হয়েছিল। এটা কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলতে পেরেছে? আমাদের আস্থা আছে, বাংলাদেশের জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে।


নেতায় নেতায় ঐক্য হলেও জনতার মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, এই মুহূর্তে জনমতে কোনো প্রতিফলন হবে না। নেতায় নেতায় ঐক্য, দলে দলে ঐক্য যতই হোক জনগণ প্রভাবিত হবে না। এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা।


তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়, তারা ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়কের নামে যে পার্টিজান নির্বাচনকালীন সরকার করেছিল, সেই চিন্তা-ভাবনা আবার তারা করছে। আবার তারা নিজেদের ছক ও কূটকৌশল প্রয়োগ করে ২০০১ সালের মতো একটা নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একটা নির্বাচন তারা চায়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ২০০১ আর ২০১৮ সাল- সময় বদলে গেছে।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ।

 


Top