ভারতকে চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারে চুক্তির খসড়া অনুমোদন | daily-sun.com

ভারতকে চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারে চুক্তির খসড়া অনুমোদন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫১ টাprinter

ভারতকে চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহারে চুক্তির খসড়া অনুমোদন

- ফাইল ফটো

 

চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘এগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া’ খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।


তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরে জন্য চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্টে যোগাযোগের জন্য যে কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে এর চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখানে প্রভিশন রাখা হয়েছে, নেপাল ও ভুটান ইচ্ছা প্রকাশ করলে যুক্ত হতে পারবে। ’


চুক্তির শর্তগুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এটির উদ্দেশ্য। ভারত কর্তৃক চট্টগ্রাম এবং মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজ্যে পরিবহন করা। দেশের অভ্যন্তরে পণ্য সামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাংলাদেশের ভেহিকেল ব্যবহার করা হবে, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী (গ্যাট) এবং দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে, শুল্ক বিভাগ ডিউটিজ অ্যান্ড ট্যাক্সেস সমপরিমাণ বন্ড গ্রহণ করা হবে। মালবাহী কার্গো শনাক্ত করার জন্য ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। ’


প্রসঙ্গত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যই ল্যান্ড লকড তথা কোনো সমুদ্রবন্দর নেই।

ভারতের অন্য অংশ থেকে ওই সব রাজ্যে যেতেও হয় অনেক ঘুরপথে। ফলে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে ওই রাজ্যে পণ্য নিতে বরাবরই আগ্রহী ভারত।


পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের যান ব্যবহার হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি ট্রানজিট ঠিক না, কারণ আমাদের পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমাদের আইন অনুযায়ী শুল্ক ও ট্যাক্স তাদের দিতে হবে। ’


তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি মোতাবেক নৌ সচিবদের নেতৃত্বে গঠিত ইন্টার গভর্নমেন্ট কমিটির মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার নিরসন করা হবে এবং উভয় দেশের কর্মকর্তা সমন্বয়ে কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সাব গ্রুপ গঠন করা হবে। জরুরি প্রয়োজনে বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো পক্ষ চুক্তির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুযোগ আছে। ’


শফিউল আলম বলেন, ‘চুক্তিটি ৫ বছরের জন্য সম্পাদিত হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছর বলবৎ থাকবে তবে ৬ মাসের নোটিশে যে কোনো পক্ষ চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে। ’


 
‘ভারতের পণ্য পরিবহনের রুটটা হচ্ছে এ রকম চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্ট টু আগরতলা ভায়া আখাউড়া একটা, চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্ট টু ডাউকি ভায়া তামাবিল, চট্টগ্রাম ও মোংলা টু সুতাকান্দি ভায়া শেওলা, চট্টগ্রাম ও মোংলা পোর্ট বিবিরবাজার ভায়া সীমান্তপুর। ’


এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সরকারি মালিকাধীন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়নার হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি চায়না ৪৯ ও ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্বে একটি কোম্পানি করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। এই কোম্পানি নাম দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। ’


তিনি বলেন, ‘ওনারা স্মার্ট মিটার থেকে শুরু করে যত ধরনের ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জাম উৎপাদন করতে পারবে। ৫০ কোটি টাকা হবে এটির অথরাইজ ক্যাপিটাল এবং পরিশোধিত মূলধন হবে ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৫৮ লাখ দেবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি এবং ১৪ কোটি এক লাখ দেবে হেক্সিং। কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হবে ৫ লাখ সিঙ্গেল ফেইজ স্মার্ট পেমেন্ট মিটার। ’


মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আইন ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 


Top