বাহরাইনকে ১০ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা | daily-sun.com

বাহরাইনকে ১০ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪৪ টাprinter

বাহরাইনকে ১০ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

বাংলাদেশের মেয়েদের মাঠে নামা আর গোল উৎসব এখন নিয়মিত দৃশ্য। সোমবার আরও একবার সেই দৃশ্যের দেখা মিলল ঢাকায়।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপের বাছাইপর্বে বাহরাইনকে ১০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাতে এই বাছাই আসরে উড়ন্ত সূচনা হলো স্বাগতিক মেয়েদের।

 

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে লিড নেয় লল-সবুজের মেয়েরা। ব্যবধান হতে পারতো আরও বড়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ৫টি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে।

 

বাংলাদেশের পক্ষে জোড়া গোল করছেন আনুচিং মগিনি, মারিয়া মান্ডা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। ১টি করে গোল করেন আনাই মগিনি, সাজেদা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও তহুরা।

 

২০১৬ সালে এই আসরের বাছাই পর্বে কিরগিজস্তানকে ১০-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

তবে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় ১৬-০ গোলের। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে ভুটানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ এই ব্যবধানে।

 

প্রথমার্ধে পুরোটা সময় বাংলাদেশ খেলেছে বাহরাইনের অর্ধে। বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা ছিলেন দর্শক হয়ে। ম্যাচের ৮ মিনিটে বড় বোন আনাইয়ের বাড়ানো বল আনুচিং বার পোস্টের উপর দিয়ে না মারলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় তখনই। তবে ১২ মিনিটে আনাই লিড এনে দিতে ভুল করেনি। ডান প্রান্ত থেকে তার ক্রস সরাসরি বাহরাইনের জালে ঢুকে।

 

১৬ মিনিটে মারিয়া মান্ডার প্রায় মধ্যমাঠ থেকে নেয়া শট জালে জড়ালে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৮ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে গোল করেন আনুচিং মগিনি। তাতে ৩-০ গোলের লিড স্বগতিকদের।

২৬ মিনিটে পর পর দুই গোল বাতিল হয় বাংলাদেশের। ডি বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপন্না ঘোষ বল জালে জড়ালেও সেটি অফসাইডে বাতিল করেন রেফিরি। একই মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলও বাতিল হয় অফসাইডে।

 

৩৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আনুচিং। ঋতুপন্নার শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।

৪০ মিনিটে মনিকা-আনুচিংয়ের কম্বিনেশন ফ্রিক থেকে আবার বল জালে জড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। এই গোলটিও রেফারি বাতিল করেন অফ সাইডে।

 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আর হতাশ হতে হয়নি শামসুন্নাহারকে। আনুচিংয়ের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র।

প্রথমার্ধজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছেন জমজ দুই বোন আনাই ও আনুচিং। ডিফেন্ডার হলেও বারবার ওভারল্যাপ করে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন আনাই। বাংলাদেশকে প্রথম লিডটাও এনে দেন তিনি।

 

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ছোট বোন অনুচিংয়ের পরিবর্তে সাজেদাকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৫২ মিনিটে ঋতুপন্নার দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে বাচান বাহরাইন গোলকিপার।

 

৫৫ মিনিটি বদলি নানা সাজেদা গোল করলে ৬-০ গোলের লিড পায় বাংলাদেশ। আঁখির বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পরই শামসুন্নাহার জুনিয়র নিজের দ্বিতীয় গোল করেন।

 

৫৮ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ডি-বক্সে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন বাহরাইন খেলোয়াড়। পেনাল্টি থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়র গোল করে ব্যবধান ৮-০ করেন।

 

৭১ মিনিটে মারিয়া মান্ডা গোল করল ৯-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৮০ মিনিটে তহুরা গোল করে দলকে ১০-০ গোলের লিড এনে দেন।

পরের ১০ মিনিটে আর গোল পায়নি বাংলাদেশ। শেষদিকে রোজিনা গোল করলেও সেটা বাতিল হয় অফসাইডে। তবে ১০-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মারিয়ারা।

 

২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের বাছাই পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে থাইল্যান্ডে মূল পর্বে খেলে বাংলাদেশ। এবারও একই লক্ষ্য গোলাম রব্বানী ছোটনের শীর্ষদের।

 

তবে দল বাড়ায় এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে বদল এসেছে। আগে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই মিলতো মূল পর্বের টিকিট। এবার ছয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও দুই সেরা রানার্স-আপ নিয়ে হবে দ্বিতীয় পর্ব। আট দলের আসর শেষে চার দল পাবে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। ২০১৯ সালে যারা খেলবে আগের আসরের তিন সেরা ও স্বাগতিক থাইল্যান্ডের সঙ্গে।

 


Top