যে কারণে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে | daily-sun.com

যে কারণে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০২ টাprinter

যে কারণে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে

অপরূপ বাংলাদেশের এক অপূর্ব নিদশর্ন অপার সম্ভাবনার এই সেন্টমাটির্ন দ্বীপ। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকন ও ভ্রমণের আকষর্ণীয় বৈচিত্র্যময় সেন্টমাটির্ন দেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।

দ্বীপটি এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পযর্টন কেন্দ্রগুলোর একটি। ভ্রমণ মৌসুমে দেশ বিদেশের লাখ লাখ পযর্টকের পদচারণায় মুখরিত ছোট্ট এই প্রবাল দ্বীপ।

 

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সমুদ্র গর্ভের এ দ্বীপটির অপর স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। প্রায় ১৬ বগির্কলোমিটারজুড়ে এ দ্বীপের বেলাভূমিতে প্রবাল পাথরের মেলা, সারি সারি নারিকেল বৃক্ষ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি, দ্বীপের চতুদিের্ক আচ্ছাদিত প্রাকৃতিক প্রবালসহ, দৃষ্টিনন্দন এই দ্বীপটির বুকে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুল্মজীবী উদ্ভিদ, ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪ ধরনের উভয়চর ও ১২০ প্রজাতি পাখির আবাসস্থল যেগুলো পযর্টক আকষের্ণর মূল উপাদান।

 

অপূর্ব নিদশর্নের এই স্থানে আসছে পর্যটকদের নতুন নিষেধাজ্ঞা আসছে। দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সব পরিকল্পনা শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই এটি কার্যকর করা হবে।

 

আনিসুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ দূষণ আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর পাশে গেলে এটি আরও পরিষ্কার হয়। তারপরও আমরা পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করছি। পরিবেশ রক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রীযাপন নিষিদ্ধ করা হবে। একইসঙ্গে দখলকৃত সব জমি উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ৬০০ মামলা করা হয়েছে, যেগুলো চলমান।

 

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সামনের সংসদ অধিবেশনে নতুন পরিবেশ আইন উঠছে। তাছাড়া গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো যেন নদী দূষণ করতে না পারে, এজন্য নজরদারি হচ্ছে। বুড়িগঙ্গাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পার্লকার। বাংলাদেশের দূষণ নিয়ে ‘ইনহ্যান্সিং অপারচুনিটিজ ফর ক্লিন এন্ড রেসিডেন্ট গ্রোথ ইন আরবান বাংলাদেশ, কান্ট্রি এনভারমেন্ট এনালাইসিস ২০১৮’ শিরোনামে করা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রতিবছর পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশে ৫২ হাজার কোটি টাকার (৬.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি বাংলাদেশের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপির সমান।

 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশ্বে যেসব মানুষ মারা যান, তার ১৬ শতাংশই মারা যান পরিবেশ দূষণের কারণে। যেখানে বাংলাদেশে এ হার প্রায় দুই গুণ। দেশটিতে পরিবেশ দূষণের কারণে মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ।

 

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে দূষণের মাত্রা বেশি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে ৮০ হাজার মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে মারা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পার্লকার, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছাড়াও বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 


Top