১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাদের সুপারিশ | daily-sun.com

১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাদের সুপারিশ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৫৯ টাprinter

১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাদের সুপারিশ

 

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির (বেতন কাঠামোর ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে চাকরির ক্ষেত্রে) সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা না রাখার সুপারিশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটি। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমাও দিয়েছে কোটা পর্যালোচনা কমিটি।

পরে সচিবালয়ে কোটা সংস্কার পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।


তিনি বলেন, ‘আগে যেটিকে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি বলা হতো, সেগুলোর নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না। অর্থাৎ ৯ম থেকে ১৩ম গ্রেড পর্যন্ত যে প্রাথমিক নিয়োগ হয়, সে নিয়োগে কোনো কোটা থাকবে না। এই প্রস্তাব আজকে আমরা সাবমিট করেছি। ’


মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এরপর এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়া হবে। অনুমোদনের পরে এটা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে। সেখানে অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে যাবে। ’


তিনি বলেন, ‘নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ মেধা ভিত্তিতে।


মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখার বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছি। তারা বলেছেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আদালতের রাইটস স্পর্শ করবে না, কোনো সমস্যাও হবে না। ’

 


ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের কোটা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা এটি যাচাই-বাছাই করে দেখেছি। বলেছি, এখন এসব কোটা না হলেও চলা সমস্যা হবে না। ’


৪০-তম বিসিএসের তো বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, সেখানে কী হবে- এ বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘বলা আছে সরকার যদি ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত নেয় সেই অনুযায়ী কোটা নির্ধারিত হবে। ’


আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে বয়স বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ’


প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে বেতনের ক্ষেত্রে ২০টি গ্রেড রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্তরা নবম গ্রেডে বেতন পান। এই গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্তরা পদোন্নতির মাধ্যমে সপ্তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত উন্নীত হন। কার্যপরিধিতে না থাকায় ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডে (আগের তৃতীয় ও চতুর্থ) নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা নিয়ে কোনো সুপারিশ করেনি কমিটি।


উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ এবং উপজাতী কোটায় পাঁচ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে এক শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।


চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জোরালো আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধও করছিলেন তারা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয় আন্দোলনকারীদের। গ্রেফতারও হন আন্দোলনকারী অনেক নেতা। আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে গত ১১ এপ্রিল সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সরকার গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে বিদ্যামান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার ও বাতিল করার জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিকে ১৫ কর্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। ৮ জুলাই প্রথম সভা করে কমিটি। পরে কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ কার্যদিবস (তিন মাস) বাড়ানো হয়।

 


Top