ডাকসু নির্বাচন: হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঢাবি’র আপিল | daily-sun.com

ডাকসু নির্বাচন: হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঢাবি’র আপিল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৫ টাprinter

ডাকসু নির্বাচন: হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঢাবি’র আপিল

 

ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে নির্দেশ দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলাটির রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি জানান, তারা (ঢাবি কর্তৃপক্ষ) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, যার নম্বর সিপি ৩৬০৬/২০১৮।


প্রসঙ্গত, চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি এক রায়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সাত মাসেও নির্বাচনের কোনো আয়োজন দৃশ্যমান না হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিশ পাঠান রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। নোটিশে বলা হয়, আগামী সাতদিনের মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিরুদ্ধে হাইকার্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। তার জবাব না পেয়ে গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) তিনি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন উপাচার্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রিটের বাকি বিবাদীরা হলেন- প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানি ও ট্রেজারার ড. কামাল উদ্দিন।


গতকাল রবিবারই (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির জন্য উঠতে পারে বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আবার ওই দিনই (১৬ সেপ্টেম্বর) ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপাচার্য কার্য্যালয় সংলগ্ন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে এ আলোচনা সভা শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।

 


ঢাবি উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ হল প্রাধ্যক্ষরা।


আরও ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন প্রমুখ। ছাত্রদলের পক্ষে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী। এছাড়াও বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


ওই বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই ডাকসু নির্বাচন চায় ছাত্রলীগ-ছাত্রদলসহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘পসিবল না’ উল্লেখ করে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেছেন, যদি এর আগে ডাকসু নির্বাচন হয় তাহলে আমরা সাধুবাদ জানাবো।


একই সাথে ঢাবি প্রশাসনের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা শেষে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাম সংগঠনগুলো ডাকসু নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহাবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

 


এর আগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য ক্রিয়াশীল সকল ছাত্রসংগঠনগুলোকে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্র-সংগঠনগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বরাবরে পৌঁছে দেয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “সার্বিক বিষয় বিবেচনায় শুধুমাত্র ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত। সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। ”

 
এর আগে ডাকসু নির্বাচনে পদক্ষেপ নিতে ৩১ শিক্ষার্থীর পক্ষে ২০১২ সালের ১১ মার্চ ঢাবি ভিসি, প্রক্টর ও ট্রেজারারকে লিগ্যাল নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ঢাবি কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের কোনো জবাব না দেয়ায় ওই বছরই ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। এরপর ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। বিবাদী ছিলেন শিক্ষা সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর।


রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৮ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ডাকসু নির্বাচনের পর এর সময়সীমা হবে এক বছর। পরে তিন মাস নির্বাচন না হলে বিদ্যমান কমিটি কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের পর ডাকসু ভেঙে দেয়া হয়।


উল্লেখ্য, প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন হওয়া কথা থাকলেও ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর দীর্ঘ ২৮ বছরে আর কোনো নির্বাচন হয়নি।

 


Top