পুলিশ ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার আসামি পিটিয়ে হত্যা | daily-sun.com

পুলিশ ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার আসামি পিটিয়ে হত্যা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৪৫ টাprinter

পুলিশ ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার আসামি পিটিয়ে হত্যা

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি শ্রমিক লীগ নেতাও ইউপি সদস্য জলিল গাইন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর বাজারে স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন।


নিহত আব্দুল জলিল (৪০) কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও শঙ্করপুর গ্রামের হাবিবুল্লাহ গাইনের ছেলে।


শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের পরিকল্পনায় জাপা নেতা কৃষ্ণনগর ইউপির চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে আটক করে চেয়ারম্যানকে হত্যার স্থল কৃষ্ণনগর বাজারে অস্ত্র উদ্ধারে নিয়ে আসা হলে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।


আব্দুল জলিল স্বীকার করেছিলেন চেয়ারম্যানকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র কৃষ্ণনগর বাজারেই লুকানো রয়েছে। পুলিশ তার ভাষ্যমতে সেই অস্ত্র উদ্ধার করতেই কৃষ্ণনগর বাজারে অভিযানে আসে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।


গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে যুবলীগ অফিসে কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের মেয়ে সাফিয়া পারভীন বাদী হয়ে ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি জলিল গাইনকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


কে এই জলিল: একের পর এক রাজনৈতিক দল বদল করেন জলিল। জাতীয় পার্টি, বিএনপি এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। বেপরোয়া আব্দুল জলিল এলাকায় ‘কিলার জলিল’ হিসেবে বেশি পরিচিত। এছাড়া তার আরেকটি পরিচয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির হাত ধরে তার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান। তবে ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে আব্দুল জলিলের সরব উপস্থিতি ছিল।


একসময়ে দিন মজুরের কাজ করতেন জলিল। তবে বর্তমানে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়িতে এসি লাগিয়ে বসবাস করছিলেন জলিল ও তার পরিবার। খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বহু অপরাধের নেপথ্য নায়ক এই জলিল।


পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ২০০৯ সালে কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী মাজেদ পাড় খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডেও জলিল সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।


২০১৩-১৪ সালে বিএনপি নেতা ওলিউর রহমান পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নিহতের পরিবারের দাবি, জলিল তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করিয়েছিলেন।


ইউপি চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল।


আরও পড়ৃন:

 

সাতক্ষীরায় যুবলীগ অফিসে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

 


Top