খালেদার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বিএসএমএমইউতে ভর্তির পরামর্শ | daily-sun.com

খালেদার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বিএসএমএমইউতে ভর্তির পরামর্শ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:৪০ টাprinter

খালেদার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বিএসএমএমইউতে ভর্তির পরামর্শ

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল  বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন। তিনি বলেন, পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন।


এর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের দোতলার কারাকক্ষে গিয়ে ২০ মিনিট ধরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তবে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি।


এরপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এরপর তারা চলে গেছেন। ’


তিনি জানান, ‘চিকিৎসকরা রবিবার কারা অধিদফতরে তার চিকিৎসার বিষয় লিখিত পরামর্শ বা ব্যবস্থাপত্র দেবেন। ’


হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে জানতে চাইলে কারা চিকিৎসক  ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বোর্ডের চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক কোনও কিছুই বলেননি, সবকিছু রবিবার জানা যাবে। ’


খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, না, এরকম কিছু বলেননি। ’


খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবনতির দিকে যাচ্ছে কিনা-জানতে চাইলে এই কারা চিকিৎসক বলেন, বোর্ডের রিপোর্ট পেলে এসব জানা যাবে।


এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, কারা-কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী বীরু, চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত এবং খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ২২১দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।     


এদিকে রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করা হয়। ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের ওই জামিনাদেশের মেয়াদ গত ১২ জুলাই শেষ হয়। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের বৃদ্ধিতে আবেদন করলে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের মেয়াদ বাড়ালেও অন্য মামলা থাকায় তিনি কারামুক্তি পাননি।


এর মধ্যে কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে খবর ছড়ায় এবং তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। বিএনপি নেত্রীকে একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। এরপর আরেক দফা তাকে সেখানে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও যাবেন না বলে জানান।

 
এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রমের জন্য কারাগারের ভেতরেই আদালত বসানো হয়। মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।      এর পরের দিনই (৫ সেপ্টেম্বর) ওই আদালতে জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচার চলাকালীন খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি অসুস্থ। পা ফুলে যায়। আপনারা যা ইচ্ছা রায় দেন, আমি আর আসতে পারবো না’।


বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কারাগারে স্থানান্তরিত ওই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেখানেও শুনানিতে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান খালেদা জিয়া। এ অবস্থায় দুদকের আইনজীবী ফৌজদারি আইনের ৫৪০ ‘এ’ ধারায় আসামির অনুপস্থিতিতেই আদালতের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আর্জি জানান। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলবে কি না- সেই সিদ্ধান্তের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।      


এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে অনুরোধ করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে এ অনুরোধ করেন।


এর পরপরই বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সচিবালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, বিএনপি নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড বসবে। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেঅনুযায়ী ১৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।


যদিও খালেদার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এই বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।    

 
দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।


এরও আগে একবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে বিশেষায়িত বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, শারীরিক পরীক্ষা করতে গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়।

 


Top