সব আপেল বিক্রি করেও চাকরি গেল কর্মীর | daily-sun.com

সব আপেল বিক্রি করেও চাকরি গেল কর্মীর

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:৪৫ টাprinter

সব আপেল বিক্রি করেও চাকরি গেল কর্মীর

একদিনে ১৫ হাজার আপেল বিক্রি করেছেন কর্মীরা। একজন ক্রেতাই সব কিনে নিয়েছেন।

এতে খুশি না হয়ে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করলেন দোকান মালিক! কিউবার হাভানায় একটি সুপার মার্কেটে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

 

জানা গেছে, ওই সুপার মার্কেটে স্থানীয় একজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার নিজের ব্লগে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। সেখানে তিনি লেখেন, কয়েকজন গুণ্ডামার্কা যুবককে নিয়ে দোকানে আসেন এক ব্যক্তি। তিনি সরাসরি ক্যাশ কাউন্টারে চলে যান। তার সঙ্গীরা তড়িঘড়ি করে একশ ৫০টি আপেলের বাক্স তুলে নেন। তার পর ওই ব্যক্তি সব আপেলের দাম মিটিয়ে সঙ্গীদের নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বেরিয়ে যান দোকান ছেড়ে।

 

ওই দেড়শ বাক্সের প্রত্যেকটিতে একশটি করে আপেল ছিল। প্রত্যেক আপেলের দাম প্রায় ৩২ টাকার মতো।

বিষয়টি সামনে আসতেই খোঁজ নেয় সে দেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘গ্র্যানমা’। তাতে জানা যায়, ঘটনার পরেই আটজন কর্মীকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেন সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষ।

 

আসলে ফিদেল কাস্ত্রোর দেশে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। যার নেপথ্যে রয়েছে দেশে ফল, দুধ, ঘি, মাখন এবং পানীয়ের ঘাটতি। ১৯৭৬ সালে সোভিয়েতের অনুকরণে একটি আইন পাস হয় সে দেশে। সেই আইন অনুযায়ী ফল, দুধ, ঘি-সহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সামগ্রীই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সেই সময়ে কোনও সমস্যা না হলেও এখন পরিস্থিতি বদলে গেছেছে।

 

কিউবার জনসংখ্যা এক কোটি ১৫ লাখ। শুধু আমদানি করা পণ্যে এত সংখ্যক মানুষের চাহিদার জোগান দিতে প্রায়শই সমস্যা দেখা দেয়। তাই কালো বাজারির রমরমা বেড়েছে। একসঙ্গে অনেক জিনিসপত্র কিনে মজুত রাখেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

 

পরে সুযোগ বুঝে চড়া দামে সেগুলো বিক্রি করেন তারা। কালো বাজারি রুখতে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় কিউবার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে। চাইলেই যত ইচ্ছা সামগ্রী বিক্রি করা যায় না। যে সুপার মার্কেটে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি সরকারি সংস্থার আওতায়। তাদেরও এই নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু তার ব্যত্যয় ঘটায় জড়িত কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

 


Top