পর্ন আসক্তিতে কি কি ক্ষতি হয়? | daily-sun.com

পর্ন আসক্তিতে কি কি ক্ষতি হয়?

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:০১ টাprinter

পর্ন আসক্তিতে কি কি ক্ষতি হয়?

পর্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই তা আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছাায়।

মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়া সত্ত্বেও পর্ন-আসক্তরা বাধ্য হন পর্নোগ্রাফিক ভিডিও বা ছবি দেখতে। নর্থপয়েন্ট ওয়াশিংটন ডট কম নামে আমেরিকার একটি রিহ্যাব এবং কাউন্সেলিং সংক্রান্ত সাইটে এমন দাবি করা হয়েছে। সেখানেই পর্ন-আসক্তির বেশ কিছু লক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  

 

পর্ন দেখার ফলে মনের মধ্যে যৌনতা সম্পর্কে এমন অবাস্তব কল্পনা বা প্রত্যাশা জন্মায়। এমনকী, নিজের পার্টনার বা যৌনসঙ্গীও সেই কল্পনার অংশ হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা যখন সেই কল্পনার সঙ্গে মেলে না, তখন নিজের পার্টনারের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখা দিতে পারে। তাঁকে আর আকর্ষণীয় মনে হয় না।

 

পর্ন-আসক্ত হয়ে পড়লে নিজের যৌনজীবন পর্নোগ্রাফিক ছবির মতো কল্পনা করার প্রবণতা জন্মায়। একজন পর্নস্টার ছবিতে যা যা করেন, নিজের সঙ্গীটিও সেরকমই করবেন বলে প্রত্যাশা জন্মায়।

সেটি না হলেই সঙ্গীর প্রতি সংশয় জাগে

 

পর্ন-আসক্তি লুকনো মুশকিল। এই ধরনের আসক্তি লুকোতে মিথ্যে কথা বলতে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা প্রকাশ্যে চলেই আসে। ফলে, নিজেকে পর্ন-আসক্ত মনে হলে বিশ্বস্ত কোনও বন্ধুকে তা বলা যেতে পারে। সাহায্য নেওয়া যেতে পারে মনোবিদ বা চিকিৎসকেরও।  

 

পর্ন-আসক্তির ফলে যৌনজীবনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছেলেদের ক্ষেত্রে ‘ইরেক্টাইল ডিসফাংশন’-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। টিনএজাররা পর্ন-আসক্ত হয়ে পড়লে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।  

 

পর্ন-আসক্ত হয়ে পড়লে সব সময়ে পর্নোগ্রাফিই চিন্তাভাবনাকে গ্রাস করে থাকে। অন্য কোনও কাজের মধ্যেও পর্নোগ্রাফি দেখার প্রবল ইচ্ছে জাগে

 

পর্ন-আসক্ত হয়ে পড়লে নিজের প্রতি একটি ঘৃণা জন্মায়। সম্ভবত সেই কারণেই এই আসক্তির চিকিৎসা করা বা অন্যের সঙ্গে আলোচনা করার ক্ষেত্রেও মনের মধ্যে সংকোচ হয়। মানসিক এমন অবস্থায় পর্ন-আসক্তের বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।  

 

একটানা পর্ন-আসক্তির ফলে স্নায়ু, মস্তিষ্কের উপরে চাপ পড়ে। এমনকী ,উগ্র ছবি, ভিডিও দেখে তৃপ্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। যার থেকে যৌন বিকৃতিও জন্মাতে পারে।

 

এই ধরনের আসক্তির ফলে নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধবকে সময় দেওয়া কমে। তৈরি হয় দূরত্ব। যার ফলে নিজেকে দোষী মনে হয়। একাকীত্ব কাটাতে আরও পর্ন দেখার ইচ্ছে জাগে।  

 

পর্ন-আসক্ত হয়ে পড়লে তার পিছনে খরচ যেমন বাড়ে, সেরকমই এই আসক্তির প্রভাব পড়তে পারে পেশাদারি জীবনেও।  কর্মক্ষেত্রে যা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

 

মানসিক ক্ষতি তো রয়েছেই, পর্ন-আসক্তির ফলে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনাও প্রবল। ভয়, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, রাগ, একাকীত্বের মতো সমস্যা তো থাকেই। একটানা পর্ন দর্শনের জেরে পিঠের ব্যথা, চোখের সমস্যা, খাওয়া-ঘুমের অনিয়মের মতো সমস্যাও অস্বাভাবিক নয়।

 

 


Top