সমালোচনার মুখে বিমসটেক সামরিক মহড়া থেকে নেপালের প্রত্যাহার | daily-sun.com

সমালোচনার মুখে বিমসটেক সামরিক মহড়া থেকে নেপালের প্রত্যাহার

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৪ টাprinter

সমালোচনার মুখে বিমসটেক সামরিক মহড়া থেকে নেপালের প্রত্যাহার

 

নেপাল সেনাবাহিনী বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সামরিক মহড়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়াই নেপাল সেনাবাহিনী ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এই মহড়ায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ওই মহড়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলেন। এই নির্দেশনার পর প্রতিরক্ষা বাহিনী তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। নেপাল সেনাবাহিনীর দলটি পুনে যাত্রা করার এক দিন আগে এই সিদ্ধান্ত নেয় হয়। সোমবার মহড়াটি শুরু হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, ভারতের উদ্যোগে এই প্রথমবারের মতো এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।

 
নেপাল কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।


ছয় দিনের ওই মহড়ায় সব সদস্য রাষ্ট্র ৩০ জনের একটি করে দল পাঠাতে সম্মত হয়েছিল। কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই মহড়ার আয়োজন করায় তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।


এমনকি সিনিয়র মন্ত্রীরা পর্যন্ত বলেন, বিমসটেক পর্যায়ে মহড়া আয়োজনের মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


প্রধানমন্ত্রী ওলির প্রেস উপদেষ্টা কুন্দল অ্যারিয়াল বলেন, সরকার মহড়ায় অংশ না নিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। এক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো চিঠি না পেলেও তাদের প্রস্তুতি বন্ধ করা হয়েছে।


গত সপ্তাহে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহড়ায় নেপালের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানালে দেশটির বিভিন্ন দলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। মোদির মন্তব্যে মহড়ার কথা প্রকাশ পেলেও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল গত জুনে, নেপালসহ সাত সদস্য রাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকে।


নেপাল সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান চন্দ্র থাপা, তিনি রোববার প্রতিরক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সামরিক মহড়ার পর সেনাপ্রধানদের সভায় যোগদান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তিনি অংশ নিতে সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছেন।


এ ব্যাপারে আইন ও বিচারমন্ত্রী ভানু ভক্ত দাহল পোস্টকে বলেন, আমাদের সরকার অনুমোদন করেনি এমন কোনো মহড়ায় আমাদের সেনাপ্রধান কিছুতেই যোগ দিতে পারেন না।


রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুরো ঘটনাটি নেপালের একটি কৌশলগত ব্যর্থতার কথা প্রকাশ করছে।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মেজর জেনারেল (অব.) বিনোজ বসনিয়াত পোস্টকে বলেন, এটি কৌশলগত নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের দুর্বলতার পরিষ্কার উদাহরণ।


তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়ে বিতর্ক এড়ানো যেত, প্রেসিডেন্ট এর অনুমোদন দিয়েছেন।


- সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মিনটর ডট কম

 


Top