রাজধানীর ‘নিখোঁজ’ ১২ ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে | daily-sun.com

রাজধানীর ‘নিখোঁজ’ ১২ ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪৭ টাprinter

রাজধানীর ‘নিখোঁজ’ ১২ ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে

তেজগাঁও ও মহাখালী থেকে তিন দিন আগে যে ১২ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা সবাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গুজব ও উস্কানি ছড়িয়ে আন্দোলনকে সহিংস করার চেষ্টা করেছিল।

 

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমীন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মো. মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, মো. সাইফুল্লাহ ও মো. রায়হানুল আবেদিন।

 

 

তাদের গতকাল রোববার রাজধানীর তেজকুনীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও রোববার দুপুরেই ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেফতারকৃতদের পরিবার দাবি করেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাদের আটক করে নেয়া হয়।

 

 

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মনোগ্রাম সংবলিত ১২ সেট ড্রেস, ১৩টি ফিতাসহ আইডি কার্ড, হ্যান্ডমাইক, ম্যাগনিফাইং গ্লাস, হাতুড়ি, স্ক্রু-ড্রাইভার, ৩টি ল্যাপটপ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্ম পদ্ধতিসহ বিভিন্ন ফর্ম, শিবির প্রকাশিত কিশোর কণ্ঠসহ বিভিন্ন ইসলামি বই, বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয় লেখা ডায়েরি ও ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওসহ স্থির ছবি উদ্ধার করা হয়।

 

মাসুদুর রহমান জানান, তাদের কাছ থেকে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেস ও আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় উস্কানি ও গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তারা এসব ব্যবহার করেছিল।

 

  

তিনি জানান, গ্রেফতারদের ফেসবুক থেকে আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। 'ঝিগাতলায় কি হয়েছে স্টুডেন্টের মুখ থেকে শুনুন; ৪ জন মারা গেছে, ৪ জন ধর্ষণ; শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স নাই; পুলিশ ঘুষ খায়; মন্ত্রী-এমপি সবাই চোর' এমন বিভিন্ন গুজব ও উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়ায় তারা।

 

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিসি মাসুদ জানান, ২৯ জুলাই বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর পর আন্দোলন শুরু হলে সেটাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি-গুজব ছড়াতে থাকে এই চক্রটি।

 

 

গত ৬ আগস্ট তারাসহ আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়ের বহিরাগত ছাত্র একত্রিত হয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন মিলে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সরকার বিরোধী বিভিন্ন উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে।

 

 

উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন ইট-পাটকেলের আঘাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পিআই আবু হাজ্জাজ, এসআই ইমাম হোসেন, এএসআই আজাদ, এএসআই ইব্রাহীমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

 

ডিসি মাসুদ আরো বলেন, ছাত্র আন্দোলনকে যারা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল, তাদের অন্যতম মূল হোতা হলেন তারেক আজিজ। তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত করতেন। ওই ঘটনায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

 


Top