মিয়ানমারের সঙ্কট নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে | daily-sun.com

মিয়ানমারের সঙ্কট নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৩:৩৬ টাprinter

মিয়ানমারের সঙ্কট নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে

 

মিয়ানমার এখন সঙ্কটে। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানো এবং সেইসাথে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ‘তদন্ত ও বিচার’ করার আহ্বান জানিয়েছে।


জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচসিআর) মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এই আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এসব অপরাধকে ‘আন্তর্জাতিক আইনে সন্দেহাতীতভাবে ভয়াবহতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।

 
বর্তমানে মিয়ানমারবিষয়ক নজর রাখাইন রাজ্যে। এখানে দমন অভিযানের ফলে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।


জাতিসংঘ মিশনের তদন্তে দেখা গেছে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অপরাধ কেবল রাখাইনের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নয়, কচিন ও শানের মতো জাতিগত সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকাতেও দেখা গেছে।


গোপন সঙ্ঘাত: রাখাইন রাজ্যে সঙ্কটের মাত্রাগত কারণে বৈশ্বিক মিডিয়ায় তা ব্যাপক নজর কেড়েছে। আর এর ফলে কচিনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের তথ্য তেমনভাবে প্রচারিত হয়নি।


কচিনের যুদ্ধকে ‌‘বিস্মৃত সঙ্ঘাত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।


মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও কচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির (কেআইএ) মধ্যে ২০১১ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে সঙ্ঘাত প্রবল হয়।

চলতি বছর সহিংসতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বর্তমানে কচিন ও শান রাজ্যের ১৪০টি আশ্রয় শিবিরে এক লাখ ছয় হাজার লোক বেসামরিক লোক বাস করছে।


কচিন রাজ্যে সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী তীব্রভাবে সমালোচিত হচ্ছে। সামরিক বাহিনী বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে, ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে।


গত সপ্তাহে মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিভিন্ন প্রমান তুলে ধরে। তারা জানায়, সরকার সেখানে মানবিক সহায়তা প্রদানের সুযোগ দিচ্ছে না। সেখানে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার কথাও জানানো হয়েছে।


মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা: গত মাসের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের নৃশংসতা গুরুত্ব পেয়েছে। অবশ্য মিয়ানমারের সরকার ও সামরিক বাহিনীকে কিভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনো অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া চীনের মতো মিয়ানমারের প্রধান মিত্ররা এই ইস্যুতে নীরব রয়েছে। দেশটি যত দিন তহবিল পেয়ে যাবে, চীনের মতো বড় শক্তির সমর্থন পাবে, তত দিন ইয়াঙ্গুনের সরকার যা ইচ্ছা করে যাবে।


তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এক জোট হয়ে মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের নিন্দা করা। অন্যথায় তারা ইতিহাসের ভুল স্থানে নিজেদের দেখতে পাবে।


- সূত্র: এশিয়ান পোস্ট অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top