খালেদাকে ইউনাইটেডে ভর্তি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ বিএনপি নেতাদের | daily-sun.com

খালেদাকে ইউনাইটেডে ভর্তি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ বিএনপি নেতাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:৪৯ টাprinter

খালেদাকে ইউনাইটেডে ভর্তি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ বিএনপি নেতাদের

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে অনুরোধ করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। জবাবে বিষয়টি নিয়ে আজই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন।

রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা জানান।


এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন।  


রবিবার বিকাল ৪টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি উনাকে যাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।


প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ড. আবদুল মঈন খান।

 

 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত এবং খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে।

নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ২১৪দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় সাজা হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহাও কারাগারে কেটেছে তার।       


এদিকে রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করা হয়। ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট।                  


হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের ওই জামিনাদেশের মেয়াদ গত ১২ জুলাই শেষ হয়। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের বৃদ্ধিতে আবেদন করলে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের মেয়াদ বাড়ালেও অন্য মামলা থাকায় তিনি কারামুক্তি পাননি।


এর মধ্যে কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে খবর ছড়ায় এবং তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। বিএনপি নেত্রীকে একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। এরপর আরেক দফা তাকে সেখানে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও যাবেন না বলে জানান।

 


এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রমের জন্য কারাগারের ভেতরেই আদালত বসানো হয়। মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।  


গেজেটে বলা হয়, বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। সে জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে বিশেষ জজ আদালত-৫ হিসেবে ঘোষণা করা হল।


গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়, এখন থেকে বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা নং ১৮/২০১৭ এর বিচার কার্যক্রম পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নং ৭ এর অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হইবে।  


এর পরের দিনই (৫ সেপ্টেম্বর) ওই আদালতে জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচার চলাকালীন খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি অসুস্থ। পা ফুলে যায়। আপনারা যা ইচ্ছা রায় দেন, আমি আর আসতে পারবো না’।

 
দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

 

 


Top