মুমূর্ষু স্বামীর পাশে থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন স্ত্রী | daily-sun.com

মুমূর্ষু স্বামীর পাশে থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন স্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:৪৮ টাprinter

মুমূর্ষু স্বামীর  পাশে থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন স্ত্রী

 

 

১০ বছর আগে এই মাসে আমি জানি, আমার পৃথিবী শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার স্বামী, আমার দুই সন্তানের পিতাকে টার্মিনাল ক্যান্সারের জন্য চিকিৎসা করা হচ্ছিল। আমাদের দাম্পত্য জীবন ছিল ১৯ বছরের।
 

সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসায় বিলকে সর্বত্র আমার সঙ্গ দিতে হয়েছিল- টেনিস কোর্ট থেকে শুরু করে বাথরুমে পর্যন্ত সহায়তা করতে হত।
 

সে সময়টি ছিল আমার জীবনের সেরা সাতটি মাস।
এ কথাটি হয়ত আমি সঠিকভাবে বলছি না। তবে এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, আমি এ সময়ে সবচেয়ে সচেতনভাবে কাটিয়েছিলাম।
জীবনের ৪২ বছর পরে আমার এ কথাটি শুনতে হয়েছে, ‘আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে.... ক্যান্সারের একাধিক লক্ষণ....মস্তিষ্কে.... এছাড়া ফুসফুসেও আক্রমণ করেছে।’
 

আমি একজন সম্মানিত পেশাজীবী। আমার একটি দায়িত্ব রয়েছে, যা আমি পালন করি। আর আশা করি আমি একজন দায়িত্ববান অভিভাবকও বটে। এ সাত মাসে আমি বুঝতে পরি, জীবনে যা কিছুই করি না কেন, আমার জীবনের কোনো কিছুই তার চেয়ে বড় নয়। আমি জানতাম না এ বিষয়টির সমাপ্তি কিভাবে ঘটবে।
আমার জন্য কোনো বাজে দিন নেই। আমি একজন কর্মী হিসেবে প্রতিদিনের কাজে যাওয়া ও আসার দিনকে নতুন করে আবিষ্কার করি, রাতের আকাশ, বেকারির সুবাস সবকিছুই আমি ভালোবাসি। কিছু দিন থাকে অন্য দিনগুলো থেকে আলাদা। তবু সে দিনগুলোতেও থাকে হাসি, মজা ও ও আবেগ।
 

আমি এজন্য খুবই সৌভাগ্যবান যে, আমার স্বামী যখন অসুস্থ হয়েছিল তখন আমি ছিলাম সুস্থ ও সবল। আমার বয়স খুব একটা হয়নি। আমার চাকরিজীবন একটি ভালো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আবদ্ধ ছিল, যারা স্বাস্থ্যগত ইনসুরেন্সের ব্যবস্থা করেছিল। আমার বসেরা বলেছিলেন আমার স্বামীকে সার্বক্ষণিক সময় দিতে।
 

বিলের ডায়াগনোসিস ও ব্রেন সার্জারির প্রথম দিকে আমাকে চিকিৎসকেরা সবচেয়ে ভালো সঙ্গী হিসেবেই অভিহিত করেছিলেন। আর তার এ রোগের ক্ষেত্রে আমি যেন ম্যাকগাইভার হয়ে উঠেছিলাম। তার যে রোগটি ছিল তার যাবতীয় বিষয় আমার জানা হয়ে গিয়েছিল। যারা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছিলেন তাদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছিলাম টেক্সাসে গিয়ে। এছাড়া পেনসিলভানিয়া ও নিউ ইয়র্কের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিষয়েও আমি কথা বলেছি। আমি জানি, কোন ধরনের কেমো মস্তিষ্কের জন্য এবং কোন ধরনের কেমো ফুসফুসের জন্য ব্যবহৃত হয়।
 

শেষের দিকে আমি বিলকে এমনভাবে সেবা দিতাম যেন সে বুঝতে পারে আমি সর্বদা তার সঙ্গে রয়েছি। যতটা মুহূর্ত সম্ভব আমি তার কাছে থাকার চেষ্টা করতাম। আমার এক সময়ের শক্তিশালী স্বামীর পক্ষে কয়েক মাস আগেই বোঝা অসম্ভব ছিল যে, এমন দিনও তার আসতে পারে।
 

বন্ধুরা আমাকে বলত অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস বা স্লিপিং পিল সেবন করতে। আমিও সে বিষয়গুলোর চাহিদার বিষয়টি বুঝতাম। কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ উপস্থিত থাকতে চাইতাম। আমি একটি মুহূর্তও ভুলতে চাইতাম না।

 

পরবর্তীতে বিলের পক্ষে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। সে নিচতলায় ফ্যামিলি রুমের সোফায় থাকা শুরু করে। আমিও তার কাছাকাছি থাকি। রাতে তার পক্ষে টয়লেটে যাওয়া কষ্টকর। আমার তাকে সহায়তা করতে হয়।
বিলের শেষ সপ্তাহান্তে, আমরা একত্রে ডিনার খেয়েছিলাম। এ সময় আর কোনো কল্পনাই কাজ করছিল না। চিকিৎসকদের সব কৌশল শেষ হয়ে যাচ্ছিল। আমি অবশ্য বিশ্বাস করতাম সে একদিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবে। হাসপাতালের বিছানায় আমরা পাশাপাশি থাকতাম। সেখানে আমরা সাবওয়ে থেকে আনা স্যান্ডউইচ ভাগাভাগি করে খেতাম এবং টিভি দেখতাম। পরবর্তীতে একজন আত্মীয় আসলেন এবং বললেন, তার আশঙ্কার কথা জানালেন যে, বিষয়টি মোটেই ভালো মনে হচ্ছে না। বিলও একই ধরনের কথা বলল। আমি তার কথা হেসেই উড়িয়ে দিলাম।

 

নিজের মনেই আমি বললাম, আমি এ মানুষের সঙ্গে বহুদিন বাস করতে পারতাম। তার যা প্রয়োজন হয় হোক, যতটা দরকার ততটাই সেবা দিতে রাজি ছিলাম। এমনকি আগামী ৪০ বছরেও কোনো সমস্যা ছিল না।
এ ঘটনার চার দিন পর সে মারা যায়।

 

১০ বছর পরে, আমি ক্যান্সারের রোগীদের জন্য কোনো ফাউন্ডেশন তৈরি করিনি। আমি মেডিকেল ডিগ্রি বিষয়ে নতুন কিছু করিনি। আমি কাজ করি। আমি বিল দেই। আমি আমার ছেলের জন্য সেখানে থাকার চেষ্টা করি। আমি সে সাত মাস সময় যেমন মানুষ ছিলাম তেমন হওয়ার চেষ্টা করি। জীবনের প্রতিটা ছোট মুহূর্তে কিছুটা ক্ষমাশীল, কিছুটা ভদ্র ও কৃতজ্ঞ হওয়ার চেষ্টা করি সর্বদা। তার সেবা করে আমি আগের তুলনায় আরও ভালো মানুষ হয়েছি বলে অনুভব করি। এটাই ছিল আমাকে দেওয়া তার সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।

 


Top