বিশ্বের সবচেয়ে অলস দেশ কুয়েত | daily-sun.com

বিশ্বের সবচেয়ে অলস দেশ কুয়েত

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৫৫ টাprinter

বিশ্বের সবচেয়ে অলস দেশ কুয়েত

বিশ্বের অলস দেশগুলোকে খুঁজে বের করতে সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তা প্রকাশ পেয়েছে ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে।

সেখানে ১৬৮টি দেশের ১৯ লাখ মানুষের ওপর গবেষণা পরিচালিত হয়। মূলত পৃথিবীর কোন দেশের মানুষগুলো শরীরচর্চা বিমুখ, তার ভিত্তিতেই অলসদের খুঁজে বের করা হয়েছে।

 

গবেষণা বলা হয়, ২০১৬ সাল নাগাদ প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ সুস্থ থাকার জন্যে যথেষ্ট শরীরচর্চা করেন না। ফলে তারা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব রোগের মাঝে রয়েছে ডায়াবেটিস এবং কিছু ক্যান্সার। যারা সপ্তাহে দুই বার অন্তত ৭৫ মিনিটের জন্য ভারী ব্যায়াম, ১৫০ মিনিটের মাঝারী মাত্রার  ব্যায়াম বা দুটোর মিশ্রণে ব্যায়াম করেন তাদেরই পরিশ্রমী বলে তুলে ধরা হয়েছে।

 

সমস্ত হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে অলস দেশ কুয়েত। এখানে জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশই যথেষ্ট ব্যায়াম করেন না। তৃতীয় অবস্থানেই রয়েছে সৌদি আরব।

এদের মাঝে প্রবেশ করেছে আমেরিকান সামোয়ারা। আলস্যের ভিত্তিতে এখানে সেরা দশের তালিকাটা দেখে নিন-

 

শরীরচর্চায় সক্রিয় বা ‘অ্যাক্টিভ’ তাদেরকেই বলা হয় যারা সপ্তাহে দুই বার অন্তত ৭৫ মিনিটের জন্য ভারী ব্যায়াম, ১৫০ মিনিটের মাঝারী মাত্রার ব্যায়াম বা দুটোর মিশ্রণে ব্যায়াম করেন। এই দিক দিয়ে সবচেয়ে কম ‘অ্যাক্টিভ’ বা বেশি ‘অলস’ দেশটি হলো কুয়েত। এখানে জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশই যথেষ্ট ব্যায়াম করেন না। তৃতীয় অবস্থানে আছে সৌদি আরব। সেখানকার ৫৩ শতাংশ মানুষই অলস। এদের মাঝে ঢুকে পড়েছে সামোয়া দ্বীপের মানুষরা। দেখে নিন এই তালিকার সবচেয়ে অলস দশটি দেশ এবং সে দেশের শরীরচর্চায় নিষ্ক্রিয় (বা অলস) মানুষের পরিমাণ-

 

১. কুয়েত (৬৭ শতাংশ)

২. আমেরিকান সামোয়া (৫৩.৪ শতাংশ)

৩. সৌদি আরব (৫৩ শতাংশ)

৪. ইরাক (৫২ শতাংশ)

৫. ব্রাজিল (৪৭ শতাংশ)

৬. কোস্টারিকা (৪৬.১ শতাংশ)

৭. সাইপ্রাস (৪৪.৪ শতাংশ)

৮. সুরিনাম (৪৪.৪ শতাংশ)

৯. কলম্বিয়া (৪৪ শতাংশ)

১০. মার্শাল আইল্যান্ডস (৪৩.৫ শতাংশ)  

 

আবার পরিশ্রমী বা সক্রিয় মানুষের দেশের তালিকাও উঠে এসেছে। সবচেয়ে পরিশ্রমী মানুষের দেশ উগান্ডা। সেখানকার মাত্র ৫.৫ শতাংশ মানুষ অলস। পরিশ্রমীদের সেরা দশের তালিকা দেখে নিন-

 

১. উগান্ডা (৫.৫ শতাংশ)

২. মোজাম্বিক (৫.৬ শতাংশ)

৩. লেসোথো (৬.৩ শতাংশ)

৪. তানজানিয়া (৬.৫ শতাংশ)

৫. নিউয়ে (৬.৯ শতাংশ)

৬. ভানুয়াতু (৮ শতাংশ)

৭. টোগো (৯.৮ শতাংশ)

৮. ক্যাম্বোডিয়া (১০.৫ শতাংশ)

৯. মিয়ানমার (১০.৭ শতাংশ)

১০. তোকেলাউ (১১.১ শতাংশ)

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ গবেষণায় আরো জানানো হয়, উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় মানুষের পরিমাণ বেশি। এটাও দেখা যায়, নারীর তুলনায় পুরুষরা নিয়মিত ব্যায়াম করে বেশি। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি অলস।  

 

জরিপে উঠে আসে দক্ষিণ এশিয়ার কথাও। বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছাড়া প্রায় সকল দেশেই পুরুষের তুলনায় নারীরা শরীর চর্চায় কম আগ্রহী এবং বেশি অলস সময় কাটায়। পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১৭ দশমিক ৩ ভাগ মানুষ অলস। এর মধ্যে পুরুষ ১৭ দশমিক ৬ ভাগ ও নারী ১৬ দশমিক ৯ ভাগ। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই দারুসসালাম, কম্বোডিয়া, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে সবচেয়ে কর্মঠ কম্বোডিয়া আর সবচেয়ে অলস ফিলিপাইন।

 

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার ৩৩ শতাংশ মানুষ অলস। যার মধ্যে পুরুষ ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ, নারী ৪৩ শতাংশ। এই অঞ্চলে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান। এ অঞ্চলে সবচেয়ে সক্রিয় দেশ নেপাল, সবচেয়ে অলস ভারত।

 


সূত্র: ব্লুমবার্গ 

 


Top