‘রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের জেআরপি প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ৩৪% পেয়েছে’ | daily-sun.com

‘রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের জেআরপি প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ৩৪% পেয়েছে’

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৭ টাprinter

‘রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের জেআরপি প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ৩৪% পেয়েছে’

- সামবুল রিজভি, রোহিঙ্গা রিফিউজি রেসপন্স-এর সিনিয়র হিউমেনিটারিয়ান কোঅর্ডিনেটর

 

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘জাতি নির্মুল’ অভিযানের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ব্যাপকহার বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরুর পর এক বছর পার হয়েছে। তারা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

কিন্তু এখনো পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। আসন্ন সাইক্লোন মওসুম এসব শরণার্থীর জন্য মানবিক ত্রাণ প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে বলে সেখানকার একজন সিনিয়র জাতিসংঘ কর্মকর্তা মনে করেন।


‘এমনকি খোলা চোখে তাকালেও এটা স্পষ্ট যে আমরা শুধু একটি বিপর্যয়ের মুখেই দাঁড়িয়ে নেই, আমাদের চারপাশে বিপর্যয় চলছে’ – এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের রোহিঙ্গা রিফিউজি রেসপন্স সংস্থার সিনিয়র হিউমেনিটারিয়ান কোঅর্ডিনেটর সামবুল রিজভি। রোহিঙ্গাদের জন্য আরো আন্তর্জাতিক তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ বছর জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্লান (জেআরপি) প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ৩৪% পেয়েছে। অথচ গত বছর ৮৫% পেয়েছিলো।

 
ঢিমেতালে সাড়া: রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ববাসীর সাড়াদান ঝিমিয়ে পড়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে মাঠের পরিস্থিতি তুলে ধরে নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের রিপোর্টে ২০১৭ সালের আগস্টে ‘গণহত্যা’ চালানোর দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।


সামবুল রিজভি’র সঙ্গে সাক্ষারকারটি নীচে তুলে ধরা হলো:


এক বছর হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি কেমন, আর সেপ্টেম্বরে সাইক্লোন মওসুম মোকাবেলার জন্য আপনাদের প্রস্তুতিই বা কেমন?


পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে সে বিষয়ে প্রথম দিকে বাংলাদেশ সরকারের কোন ধারণা ছিলো না। মাত্র চার সপ্তাহে যখন ৫ লাখ মানুষ চলে আসে তখন আমরাও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। বিশ্বে সর্বশেষ এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিলো ১৯৯০’র দশকে রুয়ান্ডায়।


এখন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংখ্যা ৯ লাখ, আরো আসছে। তাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব ইতিবাচক। কিন্তু এলাকাটি দুর্যোগ প্রবণ হওয়ায় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সাধারণ বর্ষা মওসুমও ৫ লাখ উদ্বাস্তুকে আক্রান্ত করেছে। আর যদি বড় ধরনের সাইক্লোন হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষা করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। তাদের নিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার আমাদের নেই।


এসব উদ্বাস্তুর ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতিও সামন্যই। তাহলে কি হবে?


দেখুন, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক। তার পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার, বাংলাদেশ, জাতিসংঘ উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার ও জাতিসংঘ উন্নয়ক কর্মসূচির মধ্যে একটি এমওইউ সই হয়েছে। দুই সরকার উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশা করছি। উদ্বাস্তুরা মিয়ানমার ফেরত যেতে চায়না। তারা চরম নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছে। নিপীড়নের আশংকায় পালিয়েছে বিষয়টি তেমন নয়। সেখানে বড় আকারের সহিংসতা ঘটার প্রমাণ রয়েছে। তারা রাখাইনকে নিজেদের জন্মভূমি দাবি করে আসছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও মর্যাদার গ্যারান্টি না পেলে আমরা তাদেরকে সেখানে যেতে দিতে পারি না।


ক্যাম্পের তরুণদের চরমপন্থী হওয়ার আশংকা কতটুকু? এদের অনেকেই পিতৃ-মাতৃহীন এবং জিহাদী গ্রুপগুলো তাদেরকে রিক্রুট করত পারে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে?


আমরা যেহেতু ক্যাম্পে কাজ করছি তাই আমি আপনাকে বলতে পারি যে সেখানে এ ধরনের কোন গ্রুপের চিহ্ন নেই। বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল দেশ এবং দেশটি এ ধরনের হুমকি মোকাবেলার সামর্থ্য রাখে।


সরকার অনেকগুলো পুলিশ স্টেশন বসিয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলাসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করার জন্য ৭০ জনের মতো সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন। ক্যাম্পের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন শিক্ষা পায় আমাদেরকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা পুরোপুরি খাদ্য সাহায্যে উপর নির্ভরশীল এবং এটি এই সম্প্রদায়ের আঘাত প্রশমনে সাহায্য করতে পারে।


আপনি যেসব রিপোর্টের কথা বলছেন সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আমার জানা নেই। তবে, চরম সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা একটি উদ্বাস্ত সম্প্রদায়ের উপর এ ধরনের অপবাদ দেয়া উচিত নয়।


ভারত সরকারের কাছ থেকে জাতিসংঘের প্রত্যাশা কি?


ভারত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। ভারত থেকে ত্রাণ পাঠানোর খবর আমরা শুনে থাকবো।

 

সারা বিশ্বে উদ্বাস্তুদের নিয়ে কি অবসাদ তৈরি হচ্ছে? শিশুদের আগুনে ছুড়ে ফেলার মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটার কথা আমরা শুনতে পেলেও বিশ্ব রোহিঙ্গাদের সাহায্যে সত্যিই এগিয়ে আসছে বলে আমরা দেখছি না…


হ্যা, বারবার হতাশা তৈরি হচ্ছে। নিজেদের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও বাংলাদেশের মানুষই প্রথম ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসে। এরপর জিআরপি তৈরি হয় এবং প্রথম পরিকল্পনায় ৮০-৮৫% তহবিল সহায়তা পাওয়া গিয়েছিলো।  এবছরের পরিকল্পনা মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এবং মাত্র ৩৪% তহবিল পাওয়া গেছে। তাই এমনকি খোলা চোখেও এটা স্পষ্ট যে আমরা শুধু বিপর্যয়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে নেই, আমাদের চারপাশে বিপর্যয় ঘটে চলেছে।

 

-সূত্র: দি হিন্দু অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top