শরীর চর্চা করলে শিশুদের মেধা বাড়ে | daily-sun.com

শরীর চর্চা করলে শিশুদের মেধা বাড়ে

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৯ টাprinter

শরীর চর্চা করলে শিশুদের মেধা বাড়ে

আমরা ইতোমধ্যেই জানি যে শরীর চর্চা করলে স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে। তবে এবার গবেষকরা প্রথমবারের মতো গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছেন যে, শরীর চর্চা করলে শিশুদের মস্তিষ্কের আকার বাড়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায়ও পারফর্মেন্স ভালো হয়।

 

স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা শারীরিকভাবে ফিট তাদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল এবং টেম্পরাল অঞ্চল এবং ক্যালক্যারিন কর্টেক্স-এ মগজের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব এলাকা নির্বাহী ফাংশন (কোনো কাজ করার জন্য আমাদের যে মানসিক দক্ষতা থাকে তা) এবং শেখা, মটর স্কিল এবং দেখার বিষয় প্রক্রিয়াজাতকরন (ভিজ্যুয়াল প্রসেসিং)-এর ক্ষেত্রে জরুরি ভুমিকা পালন।

 

গবেষকদের লক্ষ্য ছিল শারীরিকভাবে ফিট শিশুদের মস্তিষ্ক তাদের কম ফিট সহপাঠীদের চেয়ে ভিন্নরকম কিনা এবং এর ফলে বিদ্যালয়ের পারফর্মেন্স এর ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা? তা বুঝা।

উত্তর ছিল একটি জোরালো হ্যাঁ। শারীরিকভাবে ফিটনেস ভালো হলে মস্তিষ্কের গঠন কাঠামোও আলাদা হয়। এবং বিদ্যালয়ের পারফর্মেন্সেও এর প্রভাব পড়ে, বললেন, প্রধান গবেষক ফ্রান্সিসকো বি ওর্তেগা। যিনি গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্ট অ্যান্ড হেলথ ইনস্টিটিউটে কর্মরত আছেন।

 

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নিউরোলমেইজ জার্নালে। গবেষণাটি অ্যাকটিভ ব্রেইন নামক একটি প্রকল্পের অংশ।

ওই প্রকল্পের অধীনে ৮-১১ বছর বয়সী ১০০-রও বেশি মোটা এবং স্থুল শিশুকে নিয়ে গবেষণা করা হয়।

 

গবেষকরা দেখতে পান মটর সক্ষমতা ভাষা প্রক্রিয়াকরণ এবং পড়ার জন্য জরুরি দুটি অঞ্চলে মগজ বাড়াতে সহায়তা করে। তবে পেশিশক্তির সঙ্গে মস্তিষ্কে মগজ বাড়ার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাননি তারা।

ওই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, শরীর চর্চার মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন এবং স্থুলতায় আক্রান্ত শিশুদের ব্রেন পাওয়ার বাড়ে।

 

১৯৯০ সালে বিশ্বে স্থুলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২০ লাখ। সেখানে ২০১৬ সালে ওই সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখে এসে দাঁড়ায়। স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকরা নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন যেন, তাদের গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল যেন বিদ্যালয়ে প্রয়োগ করা হয়। এবং বিদ্যালয়ে যেন প্রতিদিন শিশুদেরকে শারীরিক শিক্ষা দেওয়া হয়।

 

সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম

 


Top