জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখায় হাসিনা ও মোদির সম্মতি | daily-sun.com

জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখায় হাসিনা ও মোদির সম্মতি

ডেইলি সান অনলাইন     ৩০ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:০৫ টাprinter

জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখায় হাসিনা ও মোদির সম্মতি

 

বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখায় সম্মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ৪র্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে এই ঐকমত্য প্রকাশ করেন।

খবর বাসসের


স্থানীয় হোটেল সোয়ালটী ক্রাউন প্লাজায় আজ বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে দুই নেতাকে উদ্ধৃত করে বলেন, তারা বলেছেন, ‘আমরা আমাদের দুই দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। ’


বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)-এর ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


প্রেস সচিব বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের এই বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। ’


দুই নেতা সাত-জাতি গ্রুপের ভবিষ্যৎ নিয়েও উচ্চাশা প্রকাশ করেন। প্রেস সচিব তাদের উদ্ধৃত করে করে বলেন, তারা বলেছেন, ‘আমরা আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই এবং এতে বিমসটেকের সকল সদস্য-দেশ লাভবান হবে। ’

 


পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় হায়াত রিজেন্সি হোটেলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির দেয়া নৈশভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য বিমসটেক নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।


নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে বিমসটেক সম্মেলনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এতে তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে নতুন গতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক এই ত্রিমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন গতি ও চলমান বাস্তবতার সঙ্গে সমভাবে এগিয়ে যেতে হবে।  


বিমসটেকের কিছু সদস্য দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগে বিদ্যুতের গ্রিড সংযোগের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যদের অংশগ্রহণে এটি বিমসটেক ইলেকট্রিসিটি গ্রীডে পরিণত হতে পারে।  

 


বিমসটেক থেকে দ্রুত সাফল্য পেতে আরও সমন্বিত, গুরুত্ব প্রদান এবং বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন গুচ্ছ থেকে ১৪টি খাত নির্দিষ্টকরণের প্রস্তাব দেন তিনি।


তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, দারিদ্র বিমোচন এবং কৃষিখাত থেকে জনগণ সরাসরি অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে লাভবান হতে পারে যদি এগুলোকে 'টেকসই উন্নয়ন' নামে একটি গুচ্ছে শ্রেণিভুক্ত করা যায়।


সিকিউরিটি, কাউন্টার- টেররিজম, ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট 'নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্ব' নামে অপর একটি গুচ্ছের আওতায় আনা হলে সেটি আমাদের সুরক্ষা দেবে, সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেবে।


তিনি বলেন, 'পিপল টু পিপল কনট্রাক' নামে তৃতীয় ক্লাস্টারের আওতায় আমাদের সংস্কৃতি ও জনস্বাস্থ্য আনা হলে সেটি আমাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।


তিনি বলেন, একইভাবে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে বিমসটেক কাঠামো এবং সুযোগ মূল্যায়নের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করে দেখতে পারি।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সাড়ে চার বছরে বিমসটেককে সামনে এগিয়ে নিতে সহযোগিতার জন্য নেপাল সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

 


Top