ভালোবাসার মানুষের জন্য ভিনদেশে? কেমন হয় সে অভিজ্ঞতা? | daily-sun.com

ভালোবাসার মানুষের জন্য ভিনদেশে? কেমন হয় সে অভিজ্ঞতা?

ডেইলি সান অনলাইন     ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:১০ টাprinter

ভালোবাসার মানুষের জন্য ভিনদেশে? কেমন হয় সে অভিজ্ঞতা?

বিদেশে যাওয়ার কারণ কী? অনেকে অনেক কারণে বিদেশ ভ্রমণ করেন। আর এ তালিকায় রয়েছে ভালোভাবে থাকার ইচ্ছে, ভালো বেতনে চাকরি, পড়াশোনা কিংবা রাজনৈতিক কারণ। তবে এসবের পাশাপাশি অনেকে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গলাভের জন্যও বিদেশ পাড়ি জমান। আর এ অভিজ্ঞতা কেমন হয়, তাই জানিয়েছেন কয়েকজন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট।

আকাশ ইসিফির
যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার দুই নাগরিক আকাশ ও ইসিফির ভালোবাসার টানে যখন দেশ ছাড়েন তখন তাদের বয়স ছিল ৩০ ও ২৬ বছর। ২০০০ সালে তারা একটি চ্যাটরুমের মাধ্যমে পরিচিত হন। এরপর তাদের ঘনিষ্ঠতা ক্রমে বাড়তে থাকে। আর এক পর্যায়ে তারা আবিষ্কার করেন তারা কাছাকাছিই বাস করেন।
ইসিফির বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমরা আবিষ্কার করি যে, আমরা একে অপরের থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরত্বে বাস করি।’ সে সময় ইসিফির যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করছিলেন। বাস করতেন একটি পরিবারের সঙ্গে। এরপর তারা পরস্পর দেখা করেন এবং এক পর্যায়ে একত্রে এক ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন। এখনও এ দম্পতি লন্ডনে বাস করছেন। তাদের দুটি সন্তানও আছে।

ডমিনিক ফ্রেয়া
একজন ফ্রান্সের ও অন্যজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক। প্রথম যখন দেখা হয় তখন তাদের বয়স ছিল ৩২ ও ২১ বছর। ২০০৭ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা একে অপরের দেখা পান। সে সময় ডমিনিক ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ফ্রেয়া অবশ্য তার পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছিলেন। এরপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। অবশ্য বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও তাদের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে। ফ্রেয়ার সঙ্গে ডিমিনিকের প্রতি ছয় মাসে একবার করে দেখা হয়। এভাবে তিন বছর চলার পর ডমিনিক আয়ারল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তারা একত্রে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেখানে তাদের পক্ষে জীবনধারণ করা কঠিন ছিল। তাই এর কিছুদিন পর আবার তারা লন্ডনে ফিরে আসেন। সেখানে তারা বাগদান করেন ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।

ম্যাভিস পিটার
আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের দুই নাগরিক ম্যাভিস ও পিটার। প্রথম যখন দেখা হয় তখন তাদের বয়স ছিল ১৯ ও ৩১ বছর। আর এ দম্পতি জার্মানির মিউনিখ সিটিতে ১৯৭২ সালেই জার্মান ভাষা কোর্সে প্রথমবার দেখা করেন। সে দিনটির কথা বর্ণনা করেছেন ম্যাভিস। তিনি বলেন, ‘সেটি ছিল খুব খুবই তাৎক্ষণিক বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি যখন সেখান থেকে ফিরে আসি তখন অন্য একজনকে বলছিলাম, আমি যে মানুষটাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি, সম্ভবত তার দেখা পেয়েছি।’
এরপর থেকে আর অন্য কিছু ভাবতে হয়নি ম্যাভিসকে। তার বাবা অবাক হন যখন প্রতি শনিবার সকালে তার ফোন আসা শুরু হয়। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি করে চিঠিও আসতে থাকে। এর এক বছর পরেই তিনি বেলজিয়ামে চলে যান। সেখানে তারা বিয়ে করেন এবং একত্রে বসবাস শুরু করেন। এ দম্পতি এখনও একত্রেই বাস করেন।

ফাইয়ি কার্লোস
নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ফাইয়ি ও চিলির নাগরিক কার্লোস যখন দেখা করেন তখন তাদের বয়স ছিল ২২ ও ২৪ বছর। ফাইয়ি ভ্রমণ করতে ভালোবাসে। চিলিতে তারা একে অপরের দেখা পান ২০১৪ সালে। সেখানে তারা ব্যাকপ্যাক নিয়ে পৃথকভাবে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এরপর কয়েক সপ্তাহ পর তারা বলিভিয়ায় দেখা করতে রাজি হন। এরপর অবশ্য ফাইয়ির ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। তবুও সেখানে দেখা করার জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন ফাইয়ি।
তিনি বলেন, ‘আমি সবখানে তাকে খুঁজে বেরাচ্ছিলাম। আমি ভাবছিলাম, তার এখানে আসার সম্ভাবনা নেই।’
কার্লোস অবশেষে ফাইয়ির দেখা পান রাস্তাতেই। আর এ ঘটনার সময়েও ফাইয়ি বেলজিয়ামে পড়াশোনা করছিলেন। পড়াশোনা শেষে কার্লোসের সঙ্গে বাস করতে চিলিতে চলে যান ফাইয়ি।


Top