ওয়াশিংটের সঙ্গে বন্ধন শিথিল, রাশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে পাকিস্তানের ভরকেন্দ্র | daily-sun.com

ওয়াশিংটের সঙ্গে বন্ধন শিথিল, রাশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে পাকিস্তানের ভরকেন্দ্র

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৫:১৬ টাprinter

ওয়াশিংটের সঙ্গে বন্ধন শিথিল, রাশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে পাকিস্তানের ভরকেন্দ্র

- রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে নিঝনি আরখিয়াজ গ্রামে রাশিয়া ও পাকিস্তানী সেনাদের যৌথ মহড়া

 

ওয়াশিংটের সঙ্গে বন্ধন শিথিল হয়ে পড়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী পাকিস্তান তার স্নায়ুযুদ্ধকালিন শত্রু রাশিয়াকে কাছে টেনে নিচ্ছে। প্রতিবেশি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর রাশ টানতে না পারার অযুহাতে পাকিস্তানকে শাস্তি দেয়া শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন।

চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানকে মার্কিন সাহায্য দেয়া বন্ধ করা হয়।

 
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতও নিশ্চিত করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে সেনা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলে আসছিলো তাও বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের অনেক সিনিয়র সেনা অফিসার এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন যা আমেরিকার কূটনীতিকদের জন্য একটি ফলপ্রসু ব্যাক চ্যানেল হিসেবে কাজ করেছে। এবছরও ৬৬ জন পাকিস্তানী সেনা অফিসারের যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা ছিলো।


অন্যদিকে ক্রেমলিনের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই, হেলিকপ্টার সরবরাহ ও সেনা প্রশিক্ষণ মহড়া। পাকিস্তান থেকে রুশ ভাষার রেডিও সার্ভিস – ডিসপ্যাচ নিউজ ডেস্ক – সম্প্রচার শুরু হয়েছে।


স্নায়ুযুদ্ধের সময় প্রবল শত্রু ছিলো রাশিয়া ও পাকিস্তান। ১৯৮০’র দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত রেড আর্মিকে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বাত্মক সহায়তা করে ইসলামাবাদ।


সাবেক দুই শত্রুর মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠতে যাচ্ছে- বলেছেন পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ও সাবেক কূটনীতিক শেহজাদ চৌধুরি।


তিনি বলেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের জন্য এটা একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন।


রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউটে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ কালাম আলম বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব ইসলামাবাদে হতাশা তৈরি করেছে।


পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী মনে করছে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ঠ ব্লাকমেইলিং করেছ, হুমকি দিয়েছে এবং তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছে।


রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত সংলাপ, প্রশিক্ষণ ও সামরিক বিক্রি মোটামুটি এক দশক আগে শুরু হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট বিতৃষ্ণা ও গত মাসের নির্বাচনে সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের বিজয় মস্কোর সামনে ইসলামাবাদের উপর প্রভাব বিস্তারের অপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। শনিবার (১৮ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন খান।


খান নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর যেসব দেশ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের পাকিস্তান পাঠায় তাদের মধ্যে এগিয়ে ছিলো রাশিয়া। উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সান্ডার ফোমিন দেশটি সফর করে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ও চুক্তি করেছেন। খানকে অভিনন্দন জানানোর ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে রাশিয়া এগিয়ে ছিলো। রুশ রাষ্ট্রদূত ভাবি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে আসেন।


পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার প্রয়াসও পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। অথচ দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর মধ্যে ভারতের মূল অংশীদার ছিলো রাশিয়া।


চৌধুরি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ হওয়ায় রাশিয়া সরে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে। ফলে পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে অনেক অবাধে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছে। ’ সাবেক এই কূটনীতিক শ্রীলংকায় দায়িত্ব পালন করেছেন।


চৌধুরি বিশ্বাস করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমিত হুমকি চীন, ইরান ও তুরস্কের সামনে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে।


এসব পরিবর্তন ১৭ বছরের পুরনো আফগান যুদ্ধের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন, যা দেশটিকে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার পথে নিয়ে যাচ্ছে।


চৌধুরি বলেন, এই শক্তিগুলো আফগানিস্তানকেও প্রভাবিত করবে। এটা শুধু হেলিকপ্টার বা ট্যাংকে সীমিত থাকবে না। এই নতুন ব্যবস্থায় শুধু রাশিয়া ও পাকিস্তান নয়, পুরো অঞ্চলটির জন্য কৌশলগত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ বৈশ্বিক বা অর্থনৈতিক দু’দিক দিয়েই ভরকেন্দ্র পূর্ব দিকে সরে আসছে।


তবে এখনই সম্পর্কচ্ছেদ করা ঠিক হবে না বলে সিদ্দিকী মনে করেন। তিনি বলেন, বহু দশক ধরে এর গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে। একে মেরামতের জন্য আমরা কাজ করছি।

 

লেখক: ওয়াজাত এস খান ও ফ্রান্সিক হুইটেকার


- সূত্র: এনবিসিনিউজ অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top