‘অশুভ ও অকল্যাণকে’ পরিহার করে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির | daily-sun.com

‘অশুভ ও অকল্যাণকে’ পরিহার করে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৪৪ টাprinter

‘অশুভ ও অকল্যাণকে’ পরিহার করে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

 

ত্যাগ আর আনন্দে সারা দেশে বুধবার (২২ আগস্ট) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

এ সময় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘অশুভ ও অকল্যাণকে’ পরিহার করে মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানি মানুষকে ত্যাগের পাশাপাশি ধৈর্য্য ধারণের শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ত্যাগ ও ধৈর্য্যের গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতা প্রদর্শনের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি সমতাভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। আসুন, কোরবানির শিক্ষা কাজে লাগিয়ে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলি। সাম্য আর মৈত্রীর বন্ধন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক- এ প্রত্যাশা করি।


তিনি বলেন, মানবতাই ধর্মের মূল বাণী। ধর্ম মানুষকে ন্যায়-নীতি ও কল্যাণের পথ দেখায়। মানবসেবার দিকনির্দেশনা দেয়।

তাই সকল অশুভ ও অকল্যাণকে পরিহার করে মানব কল্যাণে আমাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে।


প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচেরি, যুক্তরাষ্ট্রে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 


অনুষ্ঠানে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারক, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মুখরোচক খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করেছেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে গরুর মাংস, মুরগীর মাংস, লুচি, পরোটা, পোলাও, দই বড়া, সেমাইসহ কয়েক পদের মিষ্টি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন তিনি।


এর আগে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে শামিল হন রাষ্ট্রপতি। সকাল ৮টায় শুরু হয়ে সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় প্রধান জামাত। এ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ এহ্সানুল হক।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।

 

নামাজ শেষে মুনাজাতে গুনাহ থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

 

 

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।  


প্রতি বছরের ন্যায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। সারা দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আজ পশু কোরবানি করবেন। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে উদযাপন করবেন ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।


ইসলাম ধর্মগ্রন্থ থেকে জানা যায়, হযরত ইব্রাহিম(আ.) আল্লাহ’র নির্দেশে নিজের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে পরম দয়াময় আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। জিলহজ মাসের পবিত্র এই দিনে মুসলিমরা জামাতে দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে ঈদুল আজহা উদযাপন শুরু করেন।


এরপরে নামাজ আদায় শেষ হলে পশু কোরবানি দেন। ঈদের দিন বাদেই পরের দুই দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১১ ও ১২ তারিখেও পশু কোরবানি করে থাকেন মুসলমানরা।

 

 

 

 

 

- ছবি: রিয়াজ আহমেদ সুমন

 


Top