সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কয়েক জেলা ঈদুল আজহা উদযাপন | daily-sun.com

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কয়েক জেলা ঈদুল আজহা উদযাপন

ডেইলি সান অনলাইন     ২১ আগস্ট, ২০১৮ ১২:২৫ টাprinter

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কয়েক জেলা  ঈদুল আজহা উদযাপন

 

সারাদেশে বুধবার (২২ আগস্ট) ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার কথা থাকলেও একদিন আগেই মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) চাঁদপুর, পিরোজপুর, দিনাজপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় পালিত হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র এই ধর্মীয় উৎসব।


সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা এই উৎসব পালন করছেন।

এই উৎসবে শামিল হওয়ারা বিভিন্ন পীরের অনুসারী। পীরের নির্দেশেই দীর্ঘ দিন ধরে এই উৎসবে পালন করে আসছেন তারা।


চাঁদপুর: চাঁদপুরের ৪০ গ্রামের বাসিন্দারা হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারী। এই দরবারের বর্তমান পীর মাওলানা আবু জোফার আব্দুল হাই জানান, এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক একদিন আগে ধর্মীয় উৎসব পালনের রেওয়াজ চালু করেন।


মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হওয়া চাঁদপুরের গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাশারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।


সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক জানিয়েছেন, ঈদ উদযাপনে সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


পিরোজপুর: পিরোজপুরে মঠবাড়িয়া উপজেলার ৫ গ্রামের বাসিন্দারা মঙ্গলবার ঈদুল আজহা পালন করবেন। এসব গ্রামের ৬ শতাধিক পরিবারের সদস্য ঈদের নামাজ আদায় করবেন। নামাজ শেষে সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি দেন।


শুরেশ্বর দরবারের পীরের নির্দেশে যুগ যুগ ধরে তার অনুসারীরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রমজান ও ২টি ঈদ পালন করে থাকেন। উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, চরকগাছিয়া ও খেতাছিড়া গ্রামে মঙ্গলবার এই উৎসব পালিত হবে।


কচুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো: ফরহাদ হোসেন জানান সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে মঙ্গলবার ঈদুল-আজহার নামাজ আদায় করতে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।


দিনাজপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দিনাজপুরের সদর, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, কাহারোল এবং বিরল উপজেলার কিছু এলাকায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। এসব পরিবারের মুসল্লিরা বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছে।


মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকাল সোয়া ৮টায় দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে প্রায় দুইশ’ মুসল্লি অংশ নেন। এখানে ইমামতি করেন সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া ও রাবার ড্যাম এলাকা, কাহারোল উপজেলার বলেয়া ভবানীপুর, বিরল উপজেলার বালান্দোর ভারাডাঙ্গী বাজার এবং পার্বতীপুর উপজেলায় আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


বরিশাল: বরিশালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠি, টিয়াখালীর চৌধুরীবাড়ি, বাবুগঞ্জ উপজেলার ওলানকাঠি এলাকার সরোয়ার খলিফার বাড়ি, খানপুরায় জাহাঙ্গীর সিকদারের বাড়ি, কেদারপুরের মান্নান হাওলাদারের বাড়ি ও মাধবপাশার আমির দুয়ারী বাড়ির জামে মসজিদে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।


বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে তাজকাঠি জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে।


জামাতে ইমামতি কররেন মওলানা মো. দেলোয়ার হোসাইন। এছাড়াও উত্তর সাগরদী মৃধাবাড়ি শাহ্সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ ও হরিনাফুলিয়া চৌধুরীবাড়ি শাহ্সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ, জিয়া সড়ক শাহ্সুফি মমতাজিয়া মসজিদে নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


চট্টগ্রাম: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ৩০ গ্রামের মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।


নির্দিষ্ট মতবাদের অনুসারী এসব গ্রামের বাসিন্দারা সকালে নিজ নিজ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এরপর গ্রামে গ্রামে পশু কোরবানি দিয়েছেন তারা।


প্রচলিত নিয়মের আগে ঈদ উদযাপনকারীরা অধিকাংশই দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বাসিন্দা। তারা সকলেই সাতকানিয়ার মির্জারখীল দরবার শরিফের মুরিদ।


মঙ্গলবার সকাল ৯টা ও ১০টায় মির্জারখীল দরবার শরীফে দুই দফা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি। সাজ্জাদানশীন মাওলানা আবদুল হামিদ শাহর ইমামতিতে মীর্জাখীল দরবার শরিফে সকাল ৯টায় ও সাজ্জাদানশীন মাওলানা মাকসুদুর রহমানের ইমামতিতে একই দরবারে সকাল ১০টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


মির্জারখীল দরবার শরিফ সূত্রমতে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, গাটিয়া ডেঙ্গা, মাদার্শা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারাল, বাইনজুরি, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, শেখের খীল, ডোংরা, ছনুয়া, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, লোহাগাড়ার পুটিবিলা, কলাউজান, বড়হাতিয়া এবং পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, রাউজান, ফটিকছড়ির কিছু এলাকাসহ চট্টগ্রামের মোট ত্রিশটি গ্রামের মানুষ মঙ্গলবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।


এছাড়াও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও হ্নীলা বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক একই সময়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।


প্রায় দুশ বছর আগে তৎকালীন পীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান (রহ.) একদিন আগে অর্থাৎ পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা, ঈদ এবং কোরবানি পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে সারাদেশে মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা এ নিয়ম পালন করে আসছেন।


পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর নিশানবাড়িয়া, বাউফলের মদনপুরা, বগা, জৌতা, শাবুপুরা, ঝিলনা, কাছিপাড়া, গলাচিপা উপজেলার ডাউকা, কলাপাড়া উপজেলার ছয়টি গ্রামসহ বেশকিছু এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ঝালকাঠিতে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

 


Top