অতিরিক্ত কাজের চাপে জাপানে বাড়ছে আত্মহত্যা | daily-sun.com

অতিরিক্ত কাজের চাপে জাপানে বাড়ছে আত্মহত্যা

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ আগস্ট, ২০১৮ ২০:২০ টাprinter

অতিরিক্ত কাজের চাপে জাপানে বাড়ছে আত্মহত্যা

জাপান সরকার চাইছে শ্রমিক-কর্মচারীরা যেন মাসের প্রথম সোমবার সকালে ছুটি উপভোগ করতে পারেন।

'শাইনিং মানডে' নামের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপানী অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন এক প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে যেখানে ওভারটাইম কমানো এবং কাজ ও অবসরের মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা হচ্ছে।

 

গত বছর সরকার 'প্রিমিয়াম ফ্রাইডে' নামে আরেকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে যেখানে শুক্রবার বিকেল তিনটার মধ্যে কর্মীদের ছুটি দেয়া হচ্ছে। এটা করা হয়েছে যাতে ঐ সময়ে তারা বেড়াতে যেতে পারেন কিংবা কেনাকাটা করতে পারেন।

 

মন্ত্রণালয় বলছে, এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তারা একটি জরিপ চালিয়েছে যেখানে ৩০% কর্মীকে সোমবার সকালে ছুটি দেয়া হয়েছিল। ঐ জরিপে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার পর সরকার জাপানের কর্পোরেট জগতের জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করছে।

 

তবে এই প্রস্তাব কোম্পানিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। জাপানে কর্ম-সপ্তাহের মেয়াদ কমানোর প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ। সে দেশে ২০১৬ সালের ১০,০০০ কর্মচারীর ওপর চালানো একটি জরিপে দেখা গেছে ২০% কর্মচারী প্রতিমাসে ৮০ ঘণ্টা ওভারটাইম করেছেন। তবে ১৯৬০-এর দশক থেকেই জানা যায় যে দীর্ঘ সময় কাজের ফলে হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্কে নানা অসুখ হয়।

 

জাপানী ভাষায় এ ধরনের মৃত্যুর নাম 'কারোশি', যার অর্থ অতিরিক্ত পরিশ্রমে মৃত্যু।

সরকারিভাবেই কারোশিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে ২৩৬ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে। এর বাইরে 'কারোজিসাৎসু' অর্থাৎ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে কর্মীরা আত্মহত্যা করছেন। ঐ একই বছর এধরনের ২৩৬টি আত্মহত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী সাওয়াকো শিরাহাসে বলছেন, এটা জাপানের দীর্ঘ দিনেরএক সমস্যা। কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং কাজের ধারার সাথে এসব সমস্যার গভীর যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

 


Top