দেউলিয়া থেকে রক্ষা পেতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২ বিলিয়ন ডলার, কে দেবে এই অর্থ? | daily-sun.com

দেউলিয়া থেকে রক্ষা পেতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২ বিলিয়ন ডলার, কে দেবে এই অর্থ?

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:৫৪ টাprinter

দেউলিয়া থেকে রক্ষা পেতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২ বিলিয়ন ডলার, কে দেবে এই অর্থ?

 

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার প্রায় পর থেকেই পাকিস্তান ও চীন মিত্র হিসেবে রয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রশাসনে ওই মিত্রতা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে।


সাবেক ক্রিকেট তারকা লোকরঞ্জক হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি দুর্নীতি দমন ও ইসলামি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি স্বাভাবিক সময়েও এটি কঠিন কাজ। আর এখন পাকিস্তান কঠিন আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলা করছে। আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধ করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ২০ মাসে অর্ধেকে নেমে এসেছে। দেউলিয়া থেকে রক্ষা পেতে তার প্রয়োজন ১২ বিলিয়ন ডলার। একমাত্র প্রশ্ন হলো, কে দেবে এই অর্থ?


একটি বিকল্প হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। কিন্তু তাতে দুটি সমস্যা আছে। প্রথমত, যেকোনো ধরনের অর্থ প্রদান করার আগে আইএমএফ কিছু সংস্কার শর্ত দেয়।

তবে ইমরান খান যেসব সংস্কার চায়, আইএমএফ সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য নিশ্চিতভাবেই অর্থ দেবে না।


দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র অর্থ প্রদানের বিরুদ্ধে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইও বলেছেন, তারা তহবিল যোগান দিতে চান না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আইএমএফ’র অর্থ কোনোভাবেই চীনের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে না।


কঠিন বাস্তবতা হলো পাকিস্তানের এই কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য পাকিস্তানের সবসময়ের মিত্র চীনও অনেকটা দায়ী। ৫৭ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ করতে গিয়ে চীন থেকে আমদানি বাড়াতে হয়েছে। ফলে বিপুল ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে বর্তমান সঙ্কট হয়েছে।


তবে পম্পেইয়ের পদক্ষেপ পাকিস্তানকে আরো বেশি করে চীনের দিকে ঠেলে দেবে। দায়মুক্তির জন্য বেইজিংয়ের দ্বারস্থ হবে ইসলামাবাদ। এতে করে চীনের কাছে পাকিস্তানের ঋণ আরো বাড়বে। অর্থাৎ ইমরান খানকে এখন হয় চীনের আরো ঘনিষ্ঠ হতে হবে কিংবা তাকে চীনের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি বাদ ফেলতে হবে।


বেইজিংকেও বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে হবে। চীন এখন বাণিজ্য যুদ্ধে নিয়োজিত। সে এখন যত সম্ভব মিত্র যোগাড় করতে আগ্রহী। ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভিত্তিক কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করায় পাকিস্তানের প্রতিও তাদের আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে।


লেখক: টম চেশার


- সূত্র: স্কাই নিউজ অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top