বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা ফসকে গেল ভারতের কাছে | daily-sun.com

বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা ফসকে গেল ভারতের কাছে

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০৯:২৫ টাprinter

বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা ফসকে গেল ভারতের কাছে

 

বাংলাদেশের হাত থেকে ফসকে গেল শিরোপা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের ফাইনালে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে আগেরবারের চ্যাম্পিয়নরা হয়েছে রানার্স-আপ।


স্রেফ ভাগ্য চেয়েছে বলেই বিজয়মাল্যটা ভারতের গলায়। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও নিজেদের দুর্ভাগা মানছেন, ‘এমন কঠিন ম্যাচে দু-দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরবে, এটা হয় না। পোস্টের সামনে থেকে তহুরার হেড বাইরে চলে যাবে, এটাও অবিশ্বাস্য। একটা ম্যাচে ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না, তাই হেরেছি। তবে এই ম্যাচ দিয়ে আমার মেয়েদের মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। ’ 


সাত মাস আগের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল থেকে ধরলে এ পর্যন্ত টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে কিশোরীরা। এত ভালো যেন সয়নি ফুটবল বিধাতার। বাংলাদেশ কোচেরও তাই মনে হয়, ‘দিনটা আমাদের ছিল না। ভারত একটা সুযোগ পেল, সেই গোল হয়ে গেল।

আর আমাদের তিন-চারটি সুযোগের একটিও জালে গেল না। ’ 


আগের তিন ম্যাচে লাল-সবুজের দাপট ছিল পুরোমাত্রায়। প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে জেতে ম্যাচগুলো। কাল ভারতের বিপক্ষে শুরু থেকেই কেমন যেন এলোমেলো তারা। ঠিকঠাক হয় না পাসিং ফুটবল, তালগোল পাকিয়ে ফেলছে অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে। প্রথমার্ধে তারা এমন এলোমেলোই খেলেছে। নিজেদের রক্ষণ সামলাতে গিয়েও হিমশিম খেয়েছে। ৪ মিনিটে বেঁচে যায় গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তারের নৈপুণ্যে। অভিকা সিংয়ের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফেরার পর সিল্কি দেবীর হেড দারুণ ঠেকায় বাংলাদেশের গোলরক্ষক। এরপর তাদের আধিপত্য থাকলেও সেভাবে আর সুযোগ পায়নি। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে হঠাৎ লাল-সবুজের সামনে গোলের হাতছানি। দুর্দান্ত সুযোগ এটি। কিন্তু ছয় গজি বক্সে ভারতীয় গোলরক্ষককে একা পেয়েও সাজেদা বল তুলে দিয়েছে বারের ওপর দিয়ে।


এই আফসোস মেটাতে পারত বিরতির পরও। কারণ দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দে ফেরা বাংলাদেশ খেলে দাপটের সঙ্গে। ৬৪ মিনিটে তহুরা খাতুন পারেনি বলটি গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পৌঁছে দিতে। দুই মিনিট পরেই ঘটে অঘটন। নিজেদের রক্ষণে ঠিকঠাক প্রহরায় রাখতে পারেনি ভারতের ফরোয়ার্ডকে। একদম কাছ থেকে সুনিতা মুন্ডার ভলি গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের জালে। মাহমুদা আসলে অসহায় ছিল, ছয় গজি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট যায় তার মাথার ওপর দিয়ে। এক গোলে তো আর ম্যাচ শেষ হয়ে যায় না, ম্যাচে ফেরার সময়ও যথেষ্ট। মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলার কিশোরীরা। কিন্তু বাদ সাধে দুর্ভাগ্য। ৭৬ মিনিটে মনিকার বাঁ পায়ের শট ফিরিয়ে দেয় ক্রসবার। এর পরই তহুরার শট লাগে পোস্টে। যাদের পায়ে গোল ছিল মুড়ি-মুড়কির মতো ব্যাপার, সেই তাদের শট বারবার গিয়ে লাগছে পোস্টে। ভাগ্যই আসলে বাংলাদেশর প্রতিপক্ষ। নইলে ইনজুরি টাইমে অমন সুযোগ মিস হয় না তহুরার। খেলা শেষ হওয়ার মিনিট খানেক আগে রোজিনার ক্রসে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হেড করে একদম পোস্টের সামনে থেকে। আর সেটা কিনা পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় বাইরে! এই মিসে কোচ সান্ত্ব্তনা খুঁজে পান না কোনোভাবে, ‘গোল লাইনের হাত ছোঁয়া দূর থেকে সে বাইরে মারবে, এটা হয় না। অবিশ্বাস্য ঘটনা। আবার দশবার দিলে দশবারই সে বল জালে পাঠাবে। ’


দুর্ভাগ্য এমনই। যেদিন হওয়ার নয়, সেদিন কোনোভাবেই হবে না। টানা ৯ ম্যাচ জেতার পর তাই চ্যাম্পিয়নদের আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে থিম্পুতে।

 


Top