মার্কিন যাজককে তুরস্কের মাটিতেই কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে | daily-sun.com

মার্কিন যাজককে তুরস্কের মাটিতেই কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৪১ টাprinter

মার্কিন যাজককে তুরস্কের মাটিতেই কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে

 

সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার দায়ে তুরস্কে গৃহবন্দি মার্কিন ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রানসনকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্কের আদালত। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) তৃতীয়বারের মতো ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে তুর্কি হাইকোর্ট।


সম্প্রতি ওয়াশিংটনের তরফ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, ওই যাজককে মুক্তি দেয়া না হলে তুরস্কের বিরুদ্ধে আরো বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে। ব্রুনসনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক বৈরিতা শুরু হয়। খবর আনাদোলুর।


দেশটির হাইকোর্ট শুক্রবার এক রায়ে বলেছে, মার্কিন যাজক ব্রানসনকে গৃহবন্দীই থাকতে হবে। তাকে তার কারাদণ্ড তুরস্কের মাটিতেই ভোগ করতে হবে। গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বার ব্রানসন আইনজীবীদের মাধ্যমে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হলেন।


এর আগে চলতি সপ্তাহে নিম্ন আদালতেও একই রায় ঘোষণা করা হয়। তবে ব্রুনসনের আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবারও তার মক্কেলের মুক্তির জন্য আবেদন করবেন।


তুরস্কের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পিকেকে’র সঙ্গে যোগসাজশ এবং ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের হোতাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের অক্টোবরে ব্রানসনকে আটক করা হয়।

তার বিরুদ্ধে ৩৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।


মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিন বৃহস্পতিবার রাতে তুরস্ককে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন, ব্রানসনকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান আরেকবার নাকচ করে দিলে তুরস্কের বিরুদ্ধে তার মন্ত্রণালয় নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।


তবে শুক্রবার তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী রুসার পেকান বলেন, যে কোন ধরনের নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার জবাব দেবে তার দেশ। এরইমধ্যে তুরস্কও মার্কিন কিছু পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে।


এদিকে মার্কিন যাজক ব্রানসনকে আটকের ঘটনায় তুরস্ক ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এর জের ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের পণ্যের ওপর নানারকম বাড়তি শূল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং আংকারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তুরস্ক বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করে আসছে আর তারা ব্রানসনকে জিম্মি করে রেখেছে। তুরস্কের সঙ্গে আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি তুরস্কের নিজস্ব মুদ্রা লিরার মান কমে গেছে। গত জানুয়ারি থেকে ডলারের পরিবর্তে লিরার মান এক তৃতীয়াংশ ধস নেমেছে।

 


Top