শিক্ষিকার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত | daily-sun.com

শিক্ষিকার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ২০:১৮ টাprinter

শিক্ষিকার সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে  শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত

 গোপালগঞ্জে এক স্কুলশিক্ষিকার সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে দায়েরকৃত মামলায় অবশেষে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) নার্গিস সাজেদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

গত ৫ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্তের এ আদেশটি কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। বরখাস্ত হওয়া বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

এদিকে ওই শিক্ষিকার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ আগস্ট মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে তার গর্ভজাত সন্তান মুন্সি আবরার রুহিত ও শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলামের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ থানার এসআই বকুল আহমেদ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আদালতের নির্দেশে তাদের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। আসামি মুন্সি রুহুল আসলাম একই উপজেলায় সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। চাকরির সুবাদে আসামি রুহুল আসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পরিচয় ঘটে এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

 

একপর্যায়ে রুহুল আসলাম বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই শিক্ষিকাকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেন।

গত ২০১২ সালে ওই শিক্ষিকা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আসলাম মৌলভী ডেকে শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেন।

 

এরপর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু বিবাহ রেজিস্ট্রি করার কথা বললে শিক্ষা কর্মকর্তা নানান অজুহাত দেখান এবং টালবাহানা শুরু করেন। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে ওই শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এরপর থেকেই চতুরচালাক রুহুল আসলাম কৌশলে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন। কাশিয়ানী উপজেলা থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

 

 

একপর্যায় তিনি তার সন্তানকে অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী স্কুলশিক্ষিকাও বদলিজনিত কারণে গোপালগঞ্জ সদরে চলে আসেন। এরপর উপায় না পেয়ে ওই স্কুলশিক্ষিকা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরনা দেন। পরে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আসলাম তার কুটকৌশল দিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

 

মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা তার সন্তানের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন এবং গত ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল গোপালগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

 

 

আদালত অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তিনি টাকার বিনিময়ে সব কিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আদালতে ডিএনএ টেস্টের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

 

 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই মামলার বাদী গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই বকুল আহমেদ বকুল শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলাম, ওই শিক্ষিকা ও তাদের ছেলে মুন্সি আবরার রুহিতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ১৩ জুলাই তাদের ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।   এ ঘটনায় মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি রুহুল আসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 


Top