শরীয়তপুরে জাপা নেতার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ | daily-sun.com

শরীয়তপুরে জাপা নেতার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:১৬ টাprinter

শরীয়তপুরে জাপা নেতার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য সচিব নান্নু মুন্সী এক মাদরাসা ছাত্রকে (১০) হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন (বলাৎকার) করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

শনিবার রাতে মাদরাসা সংলগ্ন নিজ বাড়িতে নিয়ে এ বলাৎকার করেন।

এ সময় ওই ছাত্রের পায়ুপথ রক্তাক্ত হয়। রোববার রাতে অসুস্থ্য ওই ছাত্রকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন নান্নু মুন্সী।

 

 

পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সত্যতা আছে। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।

 

 

ছাত্রের পারিবারিক সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই ছাত্রের পরিবার নড়িয়া উপজেলায় থেকে ব্যবসা করে। ওই ছাত্রের বাবা ছেলেকে কোরআনে হাফেজ করতে শরীয়তপুর পৌরসভার বাঘিয়া এলাকায় মাহমুদিয়া হাফেজি মাদরাসায় ভর্তি করেন। মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ ইয়াছিন তিনদিন যাবৎ বাঘিয়া গ্রামের মৃত মুন্সী মাহমুদ আলীর ছেলে জাপা নেতা লম্পট নান্নু মুন্সীর পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকায় তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য ১০ বছর বয়সী ওই ছাত্রকে তার বাসায় পাঠায়।

 

 

গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব নান্নু মুন্সী ওই ছাত্রের হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক পায়ুপথে বলাৎকার করে। এতে ওই ছাত্রের পায়ুপথ ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হয়। বিষয়টি মাদরাসার শিক্ষক ও লম্পট নান্নু মুন্সী ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে। রোববার বিকেলে ছাত্রের বাবা-মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে আহত ছাত্রটিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

আহত ওই ছাত্র বলেন, ‘তিনদিন যাবৎ ইয়াছিন হুজুরে আমাকে নান্নু মুন্সীর বাসায় পাঠায়। প্রতি দিনই লম্পট নান্নু মুন্সী আমাকে ডিস্টার্ব করত। শনিবার রাতে নান্নু মুন্সী আমার হাত-পা বেঁধে পায়ুপথ দিয়ে খারাপ কাজ করে। আমি কান্নাকাটি ও চিৎকার করেও রক্ষা পাইনি।

 

 

সে আরো বলেন, এতে আমার পায়ুপথ রক্তাক্ত হয়ে যায়। আমি সকালে মাদরাসায় এসে শিক্ষককে ঘটনা জানাই। তখন শিক্ষক বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

 

 

ওই ছাত্রের বাবা অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে নান্নু মুন্সীকে ডেকে ইয়াছিন হুজুর মীমাংসার চেষ্টা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমার নাবালক ছেলের সাথে খুব খারাপ কাজ করা হয়েছে। ইয়াছিন হুজুর ও লম্পট নান্নু মুন্সী দুজনেই দায়ি। আমি আইনগত বিচার চাই। একজন ছাত্র হুজুরের কাছে নিরাপদ না থাকলে আর কোথায় যাবে? প্রশ্ন রাখেন এই অভিভাবক।

 

 

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ ইয়াছিন বলেন, গত তিন দিন পূর্বে নান্নু মুন্সীর পরিবার ঢাকায় গেছেন বলে তিনি জানান। বাড়িতে একা থাকতে ভয় পায়স জানিয়ে প্রথমে মাদরাসার সহকারী শিক্ষককে রাতে বাসায় থাকার প্রস্তাব করেন।

কিন্তু আবাসিক মাদরাসা হিসেবে ছাত্রদের দুইকক্ষ আমরা দুইজনে দেখাশোনা করি। বিধায় যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। পরে তিনি দুই জন ছাত্র পাঠাতে বলেন।

 

ওই শিক্ষক বলেন, নান্নু মুন্সি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলে হওয়ায় ওই ছাত্রসহ দুই ছাত্রকে তার বাসায় পাঠাই। পরে ছাত্রের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর নান্নু মুন্সীকে জিজ্ঞেস করি।

 

 

নান্নু মুন্সি ঘটনা স্বীকার করে ওই শিক্ষককে মীমাংসার দায়িত্ব দেন বলেও জানান শিক্ষক ইয়াসিন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে মাদরাসার সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস ছালাম বেপারী এবং ছাত্রের মা-বাবাকে ঘটনাটি জানাই। এর মধ্যে আমাকে না বলে বাড়ি চলে যায় ওই ছাত্র।

 

 

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বেপারী বলেন, আমি কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ্য। তবে বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি নেক্কার জনক। এর কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ।

 

 

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনে নিজেই মর্মাহত। কোন কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। এটা মারাত্মক অন্যায়। ঘটনা সত্য হলে উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিৎ।

 


Top